সুন্দরবনে জেলেদের ওপর হামলা ও জাল লুটের অভিযোগ
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে জেলেদের ওপর হামলা, মারধর ও জাল লুটের অভিযোগ উঠেছে অন্য জেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ জেলেদের পক্ষে মো. আব্বাস উদ্দিন নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী শরণখোলা থানা ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরনখোলা রেঞ্জের দুবলা স্টেশনের গরু চোরার খাল নামক স্থানে আমার জেলে বেল্লাল, হামিদ অবস্থান করছিল। এসময়, মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের জেলে-কর্মচারী হান্নান হাওলাদার (৫২), কাদের হাওলাদার (৫৩), জাফর হাওলাদার (৫২) ও আক্কাছ হাওলাদারসহ (৫০) আরও ৪-৫ জন বেল্লাল ও হামিদকে মারপিট করে। এসময় তাদের নৌকা থেকে এক লাখ টাকা মূল্যের ৬টি চরপাটা জাল ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে হামলাকারীরা ডিমের চর থেকে জেলে আলামিন ও কবিরকে মারপিট করে ৩০টি চরপাটা জাল নিয়ে যায়। যার মূল্য আট লাখ টাকা। একই দিনে বেদাখালীর চরে নৌকা থেকে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি চরপাটা জাল ও ট্রলারে থাকা ২ লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটে নেয় হামলাকারীরা। একদিনেই হামলাকারীরা আমার জেলেদের ১৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এসব কাউকে জানালে জেলেদের হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে সাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

আব্বাস উদ্দিন আরও বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের নদী খালে মাছ আহরণ করি। ডাকাত, প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী ও তাদের লোকদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সুন্দরবনে শান্তিপূর্ণ মাছ আহরণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনকে মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জেলেদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। যে যার মতো সুন্দরবনে পাশপার্মিট নিয়ে মাছ ধরবে। এখানে কোনোপ্রকার বল প্রয়োগের সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে।
নাহিদ ফরাজী/এমএন/জেআইএম