ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জিয়াউর রহমানের খনন করা পাথেরাজ নদী আজ যেন মরা খাল

জেলা প্রতিনিধি | পঞ্চগড় | প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ০২ মার্চ ২০২৬

সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমান একসময় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছিলেন। শ্রমিকের মাথায় সেই মাটির ডালি তুলে দিয়ে খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক পাথেরাজ নদী। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে সেই প্রমত্তা পাথেরাজ নদী।

সেই সময় জনপ্রিয় খালখনন কর্মসূচির আওতায় খননের পর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল পাথরাজ। মাছেও ভরপুর হয়ে উঠেছিল এই নদী। নদীর পানি হয়ে উঠেছিল শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের কৃষিপণ্য উৎপাদনে সেচের একমাত্র উৎস।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিক নদী ও খালখনন কর্মসূচির সময় হেলিকপ্টারে করে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এসেছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাথেরাজ নদীতে কোদাল হাতে খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। বেঁচে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগী হয়ে ওঠেন। খননের পর নদীর পানি দিয়ে তারা গোসল, কাপড় কাচাসহ বাড়ির দৈনন্দিন কাজ করতেন। কৃষকরা ফসল উৎপাদনে সেচ দিতেন। পাথেরাজ নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি বোদা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবিকারও অংশ ছিল। কয়েক দশক আগেও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বেশ পানিপ্রবাহ ছিল। নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এলাকাবাসীর জীবনে।

জিয়াউর রহমানের খনন করা পাথেরাজ নদী আজ যেন মরা খাল

সেই নদীই আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদী ভরাট ও পানিশূন্যতায় নদীটির এখন অস্তিত্বই সংকটাপন্ন। সময়ের ব্যবধানে মাটি ভরাট, পলি জমাসহ নানান কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানে হাঁটুপানিও নেই। কোথাও কোথাও শুকিয়ে গেছে সম্পূর্ণ। নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছে বিশালাকার ধানক্ষেত। তবে নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। আগে নদীর পানি ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের মাধ্যমে উৎপাদন করা হতো নানান কৃষিপণ্য। নদীতে পানি প্রবাহ না থাকায় এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে তাদের। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। অন্যদিকে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ায় বিলুপ্ত হয়েছে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। সেই সময়ে নদী ও খাল পুনঃখননের বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হলে এই নদীও নজরে আসে জিয়াউর রহমানের। এরই ধারাবাহিকতায় পাথেরাজ নদী সচল হয়ে উঠেছিল। তাই নদীটির পুনর্জাগরণকে শুধু পরিবেশগত কারণ নয়, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা। নবনির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকার নবীন-প্রবীণরা। তাদের আশা, প্রতিমন্ত্রী আজাদের হাত ধরে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাথেরাজ খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিবেন, আবার পুনরুজ্জীবিত হবে স্মৃতিবিজড়িত পাথেরাজ নদী।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বোদা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহাজান আলী বলেন, এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটা জায়গা। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি এখানে খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। যেখানে পানি থাকার কথা, মাছ থাকার কথা, সেখানে ধান আবাদ হচ্ছে। আমি মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আপনার মাধ্যমে পাথেরাজ খালটি পুনঃখনন করা হোক। আমরা যাতে প্রাণ খুলে বলতে পারি যে, এখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানের খনন করা পাথেরাজ নদী আজ যেন মরা খাল

বোদা পৌরসভা এলাকার মো. মনসুরুল হক বলেন, এই নদীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন করেছিলেন। তখন আমি গ্রাম সরকার প্রধান ছিলাম। পাশের শালসিঁড়ি ইউনিয়ন থেকে পাথেরাজ নদীটির উৎপত্তি। নদীতে আগে অনেক পানি ছিল, মাছ ছিল। এখন নদী ভরাট হয়ে গেছে। অস্তিত্ব তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু একটা ছোট্ট নালার মতো আছে। ওই দিক দিয়ে পানি যায়। এই নদী পুনঃখনন করা হলে আমরা সকলেই উপকৃত হব।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ি এখানেই। ছোটবেলায় আমি নিজেই দেখেছি, জিয়াউর রহমান সাহেব এখানে এসে মাটি কেটেছেন। সেই মাটি ডালিতে করে একজন নারী শ্রমিকের মাথায় তুলে দিয়েছিলেন। এরপর এই নদীতে বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। এখনতো পানিই নেই। এই নদী যদি খনন করা হয়, তাহলে নদীর দুই পাশে আবাদি জমিতে পানি সেচ দেওয়া যাবে। এখানে মাছও পাওয়া যাবে।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, একটি কমিটির মাধ্যমে বোদা উপজেলার প্রধান দুই নদী ঝিনাইকুড়ি ও পাথেরাজের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ পরিমাপ করে পুনঃখননের উপযোগিতা যাচাই করা হয়েছে। আমরা শিগগির প্রস্তাব পাঠাবো খাল দুটি যাতে পুনঃখনন করা হয়। বিশেষ করে আমরা জানি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজোড়িত এই পাথেরাজ খাল। তিনি এসে নিজ হাতে এই খাল খননের উদ্বোধন করেছিলেন। তার স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি সর্বাগ্রে পুনঃখনন শুরু হবে- এমনটাই আশা করছি আমরা।

এফএ/এমএস