ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাঙ্গামাটি থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ভারতে পাচারের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | রাঙ্গামাটি | প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ০৩ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে মালিকবিহীন কুকুর বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তাদের দাবি ‘মাংস খাওয়ার’ জন্য তারা প্রাণীগুলোকে শিকার করছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেছেন। শিকার করা কুকুরগুলো বরকলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কুকুরের একটা বড় অংশ ভারতে বিক্রির জন্য পাচার করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

২০১৯ সালের প্রাণীকল্যাণ আইন অনুসারে মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শুধু পরিবেশ নয়, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করে। যখন বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া হয় তা মানবদেহের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। এই আইন হয়েছে মূলত জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য। যে এলাকার কুকুরকে ভ্যাকসিনেশন করা হয়েছে সে এলাকার কুকুরকে যদি ধরে নিয়ে যায় বা অপসারণ করে, তাহলে ওই জায়গায় একটা গ্যাপ তৈরি হয়। ফলে অন্য এলাকা ভ্যাকসিনেশন ছাড়া কুকুর ওই এলাকায় চলে আসে। ফলে সেখানে রেভিস আক্রান্ত কুকুর সেখানে চলে আসতে পারে। এই আইনটি সে কারণে করা হয়েছে, যাতে কোনো কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করে।

সম্প্রতি জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ভারতে পাচারের অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে। শুধু লংগদুই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকেও কুকুর সংগ্রহ করা হয়। শহরকেন্দ্রিক প্রশাসনের নজরদারি বেশি থাকায় চক্রটি কৌশল বদলে দুর্গম উপজেলা এবং সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোকে টার্গেট করছে। মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে পাংখোয়া পাড়ায় নেওয়া হয় কুকুরগুলো।

জানা গেছে, মূলত মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে। সেসময় একেকটি কুকুর ৭ থেকে ১২ হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই এবং বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় কুকুর পাচার চক্রটি উৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে কুকুর সংগ্রহ করে থাকে।

রাঙ্গামাটি থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ভারতে পাচারের অভিযোগ

জেলার লংগদু উপজেলার দূর্গম গুরুসতাং পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দা লালা পাংখোয়া বলেন, নিজেরা খাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে কুকুর ধরা হয়। তবে বেচাবিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নাই। লংগদু থেকে কিছুদিন আগে যে কুকুরগুলো ধরা হয় তা বরকল উপজেলার কুকিছড়া ও হালাম্বা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের বাসিন্দারাও কুকুরের মাংস খায়। কখনো কখনো সীমান্ত দিয়ে ওপারেও পাঠানে হয় বলে শুনেছি।

নেচার অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটি অব সিএইচটির সংগঠক প্রান্ত রনি বলেন, প্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কোনো প্রাণীকে ধরা বা মেরে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষ করে কুকুর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি প্রাণীর একটা জীবন চক্র আছে যা ওই প্রাণীর বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য গুরুত্ব বহন করে। এখানে প্রয়োজন কুকুরের ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে নিরাপদ করা। যাতে কুকুর সমাজের জন্য ভয়ের কারণ না হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পথে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরের স্বাস্থ্যগত অবস্থা অজানা থাকায় জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা থাকে। ভেটেরিনারি পরীক্ষা ছাড়া জবাই এবং ভক্ষণ করলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি আশঙ্কা রয়েছে।

আরমান খান/এফএ/জেআইএম