ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নেই কলকারখানা, কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় ছুটছেন গাইবান্ধার শ্রমিকরা

আনোয়ার আল শামীম | গাইবান্ধা | প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ০৩ মার্চ ২০২৬

উত্তরের পিছিয়ে পড়া জেলা গাইবান্ধায় নেই তেমন কোনো কলকারখানা। এতে কৃষিনির্ভর এই জেলায় ধান রোপণের পর কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদেই কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় ছুটে চলেন এ জেলার দিনমজুররা। এসব শ্রমিকরা রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে এসে জড়ো হন অল্প ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য।

ধানের চারা রোপণ শেষ হওয়ায় হাতে আর কাজ নেই জেলার শ্রমিকদের। কর্মহীন বসে থাকায় জড়িয়ে পড়েছেন ঋণে। এরমধ্যে রমজানে পরিবারের জন্য একটু ভালো খাবারের যোগান, সামনে ঈদের খরচ সর্বোপরি জীবন বাঁচানোর তাগিদে দিশাহারা নিম্ন আয়ের এসব মানুষ কাজের সন্ধানে ছুটছেন আশেপাশের জেলায়।

প্রতিদিন সহস্রাধিক শ্রমিক মানুষ কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে এসে জড়ো হন। ট্রেন ও বিভিন্ন বাসে কম টাকার ভাড়ায় তারা অন্য জেলায় যান বিভিন্ন কাজের সন্ধানে। দল বেঁধে চলে যান বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়।

নেই কলকারখানা, কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় ছুটছেন গাইবান্ধার শ্রমিকরা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজ না থাকায় প্রায় এক মাস থেকে বসে আছি। সামনে ঈদ, হাতে কোনো টাকা নাই। তাই জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ধান লাগানোর জন্য যাচ্ছি। কয়েকটা দিন কাজ করলে ঈদটা করা যাবে।

রমজান আলী বলেন, ‘হতোত পয়সাকুড়ি নাই, হাত ফাঁকা। কয়েকটা দিন কাজ করে আসলেই বাজার সদাই করা যাবে। সুদের উপর টাকা খাইলে শোধ করমো ক্যামনে?’

জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মন্ডলের হাটে সবুজ মিয়া বলেন, ‘গাইবান্ধায় কোনো কারখানা নাই যে সেটি কাম করমো। সেজন্য নওগাঁর দিকে যাচ্ছি ভেওনিড়ানি কামোত। ১০-১২দিন থ্যাকা সাত-আট হাজার ট্যাকা নিয়ে বাড়ি এসে বউ-ছৈল নিয়ে খামো। এখানে কাম না থাকলেই এভাবে গিয়ে কাম করি আসি।’

বাস কাউন্টারের বেলাল মিয়া বলেন, প্রতিদিন শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে ভিড় করেন। তাদের অনেকের কাছেই থাকে না গন্তব্যে যাওয়ার ভাড়াও। নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেকও দিতে চায় না এসব কৃষি মজুররা।

নেই কলকারখানা, কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় ছুটছেন গাইবান্ধার শ্রমিকরা

গাইবান্ধা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু বলেন, গাইবান্ধার অধিকাংশ শ্রমিক কৃজি কাজের ওপর নিভরশীল। এখানে কাজ না থাকলেই অভাবের কারণে তারা অন্য জেলায় ছুটাছুটি করেন। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে কৃষি ভিত্তিক শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলার দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্প কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে নিজ এলাকায় কর্মহীন এসব মানুষদের কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন গাইবান্ধা সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল করিম।

কৃষিনির্ভর এসব এলাকার মানুষ বছরের বেশিরভাগ সময় কর্মহীন হয়ে থাকেন। তাই কৃষি ভিত্তিক শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেই জীবনের চিত্র পাল্টে যাবে এসব মানুষদের।

এফএ/এএসএম