রমজান উপলক্ষে ১ টাকা লাভের দোকান
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন নাজমুল ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সরেজমিনে বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের উপজেলা রোড়ে অবস্থিত এস এ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাজমুল ইসলাম (সুমন স্যার) দোকানে এই চিত্র দেখা যায়। দোকানের সামনে কাপড়ের ব্যানারে বিশাল করে লেখা ‘১ টাকা লাভের দোকান’।
স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে, যেদিন রমজানের চাঁদ দেখা গেছে সেদিন থেকেই দোকানের প্রায় ২০০য়ের বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মাত্র ১ টাকা লাভে বিক্রি করছেন নাজমুল। এটি ঈদের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
নাজমুল ইসলাম জানান, তার দোকানে ছোলা, মুড়ি, চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, খেজুর, ডিম, কমলপানি, শিশুখাদ্য ও লবণসহ প্রায় ২০০ বেশি পণ্য এ তালিকায় রয়েছে।
পণ্যগুলো পাইকারি যে দামে কিনেন, তার থেকে ১ টাকা লাভে বিক্রি করেন তিনি। সে কারণে তিনি অনেক ব্যবসায়ীর বিরাগ ভাজনে পরিণত হয়েছেন। তবে ক্রেতারা খুশি। ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করায় ক্রেতারা কেজিতে প্রকারভেদে কোন কোন পণ্যে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন।
ক্রেতা গোলাম রসুল বলেন, আমি গত রমজান মাসে এখানে রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো ক্রয় করেছিলাম। এখান থেকে ক্রয় করার সুবিধা হচ্ছে স্বল্প মূল্যে মাত্র ১ টাকা লাভে আমরা পণ্যগুলো ক্রয় করতে পারছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের রমজানে আসলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আমাদের এই ভাইয়ের এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের জন্য উপকারী।
আরেক ক্রেতা মো. রশিদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে এই দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করি। যেখানে রমজান আসলে আমাদের দেশে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এই দোকানদার মাত্র ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রয় করেন। এই উদ্যোগটি বাড়ানো উচিত।
বৃদ্ধ ক্রেতা আবুল হাসান বলেন, আমার আয় সীমিত। পেনশনের টাকায় সংসার চালাই। বাজারে গেলে অনেক সময় জিনিস কেনা সম্ভব হয় না। এখানে আসলে পণ্যগুলো কম দামে পাচ্ছি। রমজান মাসে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নাজমুল ইসলাম (সুমন স্যার) বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে গতবার এই পদ্ধতি চালু করেছিলাম। জনসাধারণের উপকারে জন্য। তাদের উপকার করতে পারলে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে। গতবারে ১ টাকা লাভে পণ্য বিক্রয় করেছি। এবারও করছি। আল্লাহ আমাকে সুস্থ রাখলে, বেঁচে থাকা পর্যন্ত আমি জনসাধারণ জন্য প্রতি বছরে এই অফারটি দিবো।
তিনি বলেন, আমি শিক্ষক ছিলাম। দীর্ঘ ২৬ বছর শিক্ষকতা করছি। কয়েক বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে তিন বছর বিছানায় পড়ে ছিলাম। তখন থেকে আমার মনে হয়ে জনসাধারণের জন্য কিছু উপকার করব। এই চিন্তা থেকেই সুস্থ হওয়ার পরই এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। বর্তমানে ব্যাপক সারা পাচ্ছি। আমার দোকানে কোনো কর্মী নেই। দোকান খোলা এবং বন্ধ সব কাজেই আমাকে ক্রেতারা সাহায্য করে। অনেক ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের বলে আমার দোকানের পণ্য নিম্ন মানের ও মেয়াদউর্ত্তীণ পণ্য সেজন্য কম মূল্যে দেই। কিন্তু গ্রাহকরা যখন আমার দোকানে এসে যাচাই করে পণ্য নেয়, তখন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারেন।
এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর/এমএস