কুমিল্লায় মন্দিরের পর মসজিদ গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
ফাইল ছবি
কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় মন্দিরে পূজা অর্চনা চলাকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে মন্দিরের এক পুরোহিত আহত হয়েছেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ হলে সেখানেও দুজন আহত হন।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—কালীবাড়ি শিব মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী, বাগানবাড়ি এলাকার সুজাত আলীর ছেলে আবদুল বারেক ও নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত কেশব চক্রবর্তী জানান, সন্ধ্যায় তিনি ভক্তদের নিয়ে কালী গাছতলা মন্দিরে পূজা অর্চনা করছিলেন। এসময় একটি (ককটেল সদৃশ) বস্তু তার কাছাকাছি এসে পড়ে। প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন আশপাশ থেকে কিছু একটা ছিটকে এসে পড়েছে হয়তো। তখন সেটিকে থাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেন। কিন্তু পরক্ষণেই ককটেলটি বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।
তার স্ত্রী ওমা চক্রবর্তী জানান, মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে (ককটেল সদৃশ) কিছু একটা নিক্ষেপ করে দ্রুত চলে যায়। ওই বস্তুটির ভেতর ধোঁয়া উঠতে দেখে তিনি সেটিকে বোমা ভেবে স্বামীকে সতর্ক করেন। ঠিক তখনই সেটি বিস্ফোরিত হয়।
আহত পথচারী আবদুল বারেক বলেন, তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ রাস্তার পাশে একটি ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি শ্যামল সাহা বলেন, সম্প্রীতির শহর কুমিল্লার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যায় তিন ব্যক্তি এসে মন্দিরের কাছে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে এবং একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। মন্দিরে নিক্ষেপ করা ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিত আহত হন। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের মসজিদের ফটকের সামনে আরও দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সেখানে থাকা দুজন মুসল্লি আহত হন।
তিনি বলেন, যারা দেশের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এমকেআর