যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নিল পুলিশ
যৌতুক না পেয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের ডোমরগাছা গ্রামে স্ত্রী জাকিয়া সুলতানার চুল কেটে নিয়েছে স্বামী। মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্যাতিতা জাকিয়া সুলতানা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাই সরকারের মেয়ে। অভিযুক্ত পুলিশ স্বামীর নাম আসাদ আলম। তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের ডুমুরগাছা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানায়, স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা হাসিকে ১০ দিন ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে মাথার চুল কেটে নিয়েছে তার স্বামী।
এ বিষয়ে জাকিয়া সুলতানার মা বলেন, খবর পেয়ে তারা ডোমারগাছা গ্রামে গিয়ে মেয়ের এ দুর্দশা দেখে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে চলে আসতে বাধ্য করে।
তিনি আরো জানান, ‘কোথায়, কার কাছে যাবো আমরা। থানায় মামলা দিতে গেছি, কিন্তু তারা মামলা নেয়নি। এখন নিরুপায় আমরা।’ 
জানা যায়, জাকিয়া সুলতানা হাসির সঙ্গে সাত বছর আগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের ডোমারগাছা গ্রামের লাল মিয়া মণ্ডলের ছেলে আসাদ আলম প্লাবনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ তিন লাখ টাকা দিতে হয় বলে হাসির মা জুলেখা বেগম জানিয়েছেন।
পুলিশ কনস্টেবল আসাদ আলম প্লাবন বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত। তার ব্যাচ নম্বর ৫০৮। পরশি আকতার (৫) নামে তাদের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
সম্প্রতি আসাদ আলম প্লাবন স্ত্রীর সম্মতি না নিয়েই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় নাহিদ নামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে আসাদ আলম হাসিকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু এতে হাসি রাজি না হওয়ায় আসাদ আলম প্রায়ই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সেই সঙ্গে নতুন করে আরো তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
হাসি গত রমজান মাসে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। ঠাকুরগাঁও থেকে বাড়ি এসে আসাদ আলম গত ৩ জুলাই স্ত্রী হাসিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার বাড়ি নিয়ে আসেন। তাকে তখন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার কথা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদকে মেনে নেয়ার কথা বলেন। কিন্তু এতে হাসি রাজি না হওয়ায় ওই দিন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন হাসিকে একটি অন্ধকার ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়। সেখানে ঠিকমতো তাকে খাবারও দেয়াও হয়নি।
প্রতিবেশীরা জানায়, গোপনে হাসিকে খাবার দিয়েছেন তারা। স্বামী পুলিশ সদস্য হওয়ায় প্রতিবেশীরা এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করারও সাহস পায়নি। বন্দি অবস্থায় রেখে আসাদসহ পরিবারের অন্যান্যরা হাসির ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করতো এবং তার মাথার চুলও কেটে নিয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, আসাদ আলম স্ত্রী হাসিকে তালাক দিয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসি আসাদ আলমের বাড়ি গিয়ে অবস্থান নেয়। তাই এ ব্যাপারে তাদের করণীয় কিছু নেই। তবে তাকে হাসির ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মামলা দেয়া হলে তা গ্রহণ করা হবে।
অমিত দাশ/এএম/এআরএ/এবিএস