রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ৭ এপ্রিল শুরু
দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী ৭ এপ্রিল প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি এই ঐতিহাসিক ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে জানান, রুশ ঠিকাদার আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে জানিয়েছে যে, ইউনিট-১ এ ৭ এপ্রিল থেকে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউনিট-১ এর সব প্রস্তুতিমূলক কাজ আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং তথা জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি ঘিরে প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (NPCBL) অধীনে কর্মরতদের ঈদুল ফিতরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক (প্রশাসন, উপ-সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ফুয়েল লোডিং অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন। ফুয়েল লোডিং অনুষ্ঠানের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও নিরাপদভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হলো।
এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট, যা মিলিয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণে সক্ষম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।
শেখ মহসীন/কেএইচকে/এমএস