ময়মনসিংহে ঈদের পর জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পাম্পে ভিড়
ময়মনসিংহের পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মাঝে কয়েকদিন দীর্ঘ সারি কমলেও ঈদকে কেন্দ্র করে পাম্পগুলোতে আবারও ভিড় বেড়েছে।
সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন পাম্পে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেলের সারি রয়েছে। একেকজনের তেল পেতে সময় লাগছে আধাঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা। তবে অনেক পাম্প চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে না। এতে চালকদের সঙ্গে পাম্প কর্মচারীদের বাগবিতণ্ডাও সৃষ্টি হচ্ছে।
তেল নিতে আসা যানবাহনের চালকরা জানান, ফুল ট্যাঙ্কি তেল চাইলে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের তেলের চাহিদা বাড়ায় ঈদের পর তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাতেই অনেক চালক ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিতে চাচ্ছেন। তবে পাম্প কর্মচারীদের পরিচিত চালক আসলে ঠিক চাহিদামতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

আসাদ নামের একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, ঈদে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াবেন। যে কোনো মুহূর্তে পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে— এমন আলোচনা রয়েছে চালকদের মধ্যে। তাই নগরীর টাউনহল এলাকায় অটোমোবাইল ফিলিং স্টেশনে ফুল ট্যাঙ্কি তেল নিতে যান। কিন্তু তেল দেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকার। অথচ পাম্প কর্মচারীদের পরিচিত এক মোটরসাইকেল চালককে ফুল ট্যাঙ্কি তেল দেওয়া হয়েছে।
শামীম আহমেদ নামের আরেক চালক বলেন, শহরতলীর চায়নামোড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার তেল নিয়েছি। এক মোটরসাইকেলে এরচেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আশঙ্কা রয়েছে, ঈদের ঠিক পরপর তেল সরবরাহের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই জেল রোডে অবস্থিত মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশনে যাই। তবে এ পাম্প ফুল ট্যাঙ্কি তেল সরবরাহ করেছে।

মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. কালাম বলেন, কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ঈদের পরপর জ্বালানির চরম সংকট দেখা দিতে পারে। তাই বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালক ট্যাঙ্কি ফুল করতে চাচ্ছেন। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। তবে হুড়োহুড়ির কারণে দ্রুত সরবরাহ করতে কয়েকজনকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত তেল দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে ফুল ট্যাঙ্কি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। ময়মনসিংহে কেউ যেন জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি রয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/আরএইচ/এএসএম