ঈদে মাটির টানে জন্মস্থানে ফিরে চিকিৎসকদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
ঈদের আনন্দকে আরও মানবিক ও অর্থবহ করে তুলতে কুয়াকাটায় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকার কৃতি সন্তান চিকিৎসকরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত এসব চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে নিজ এলাকায় ফিরে এসে আয়োজন করেন একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, যেখানে দুই শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন পায়রা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সাধারণ রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. আতিকুল ইসলাম ও ডা. ফারিয়া ফেরদাউস (সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, মেঘনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ), ডা. মো. ইসমাইল হোসেন (মেডিকেল অফিসার, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল), ডা. তৌফিকুল ইসলাম (রনি) (মেডিকেল অফিসার, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এবং ডা. কেয়া আক্তার (মেডিকেল অফিসার, মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ)।

ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের প্রতি একটি দায়িত্ববোধ থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছি। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং যারা অর্থাভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।
ডা. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদের সময়টাতে আমরা সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করি, কিন্তু সমাজের অনেক মানুষ আছেন যারা মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত। সেই জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত একদিনের জন্য হলেও তাদের পাশে দাঁড়াতে। এখানে এসে আমরা রোগীদের কথা শুনেছি, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে আরও নিয়মিতভাবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার ইচ্ছা রয়েছে।

সংগঠন পায়রা’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি ক্যাম্প নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে।
চিকিৎসা নিতে আসা খাদিজা বেগম (৪৫) বলেন, বিনা খরচে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের মতো মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা।
কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে এলাকার দরিদ্র মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/জেআইএম