ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নেতার বিয়েতে ডিজেল উপহার!

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ২৫ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার বিয়ের আয়োজন ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিয়েতে প্রচলিত উপহারের পরিবর্তে অতিথিরা বরের হাতে ডিজেল তুলে দেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ডিজেলভর্তি একটি পাত্র উপহার দেন।

বিয়ে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী উপহারটি আলোচনায় আসে গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। ফেসবুক পোস্টে ছবিটি প্রচার করে তিনি লেখেন, ‘তৈলের তীব্র সংকট মোকাবিলায় নতুন জামাই-বউকে তৈল মর্দন।’ এরপরই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনটির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল মৃধাসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে একটি ৫ লিটারের পাত্রে প্রায় ৩ লিটার ডিজেল ভরে বর ও কনের হাতে তুলে দেন। এসময় তারা উপস্থিত অতিথিদের সামনে প্রতীকীভাবে এই উপহার প্রদান করেন, যা জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক হুসাইনের ছেলে ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে একই উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম খানের মেয়ে শারমিন স্বর্ণার বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ব্যতিক্রমধর্মী উপহার প্রদান করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম বলেন, আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। আজ দেশের গ্রামাঞ্চলে ডিজেল সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি করেছে। কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না, এমনকি পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা নিজেরাও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে তেল পাইনি। এই পরিস্থিতিতে বিয়ের মতো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডিজেল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। এটি কোনো ব্যতিক্রম দেখানোর জন্য নয়; বরং একটি বার্তা। জ্বালানি সংকট এখন মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী উপহার বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব এনে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে সৃজনশীল ও সময়োপযোগী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বর্তমান সংকটের প্রতিচ্ছবি বলেও মন্তব্য করেছেন।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এফএ/এমএস