ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬

চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার তরমুজ বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এরইমধ্যে জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবছর ফলনও হয়েছে বাম্পার।

একসময় আমন ধান চাষে নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ধীরে ধীরে তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে এখন চোখে পড়ে লাল-সবুজ তরমুজের সমারোহ। অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষক ধান ও অন্যান্য ফসলের আবাদ কমিয়ে তরমুজ চাষে মনোযোগী হয়েছেন।

তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। খুচরা বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না তারা।

পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা

গলাচিপার হরিদেবপুর এলাকার তরমুজ চাষি নজরুল মিয়া বলেন, ‌‘বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে তরমুজের দাম পাচ্ছি না। খুচরা বাজারে দাম বেশি হলেও পাইকারিতে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না।’

দশমিনা উপজেলার কৃষক আল আমিন সিকদার জানান, রমজানের শুরুতে যারা আগাম তরমুজ বাজারে তুলতে পেরেছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। এরপরও তিনি আশা করছেন, খরচের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।

পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা

চর কাজল এলাকার কৃষক নাঈম ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, এবছর জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে।

পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় তরমুজকে ঘিরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হবেন।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/জেআইএম