নীলফামারীতে কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
নীলফামারীরতে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকার বেশকিছু টিনের ঘর এবং কয়েক হাজার গাছপালা উপড়ে গেছে। এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। এতে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও সদর উপজেলার ভুট্টা, ইরি বোরো ধান এবং শাকসবজি তছনছ হয়ে গেছে।
চলতি মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের পড়েছিল। এর মধ্যে আবার বেশি দামে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনে ভুট্টা, মরিচ ও কলার চাষ করেছিল। কিন্তু কালবৈশাখীর কারণে সেই ফসলও মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষক বিধান চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম মিয়া জানান, জলঢাকা উপজেলার কৈমারি ও শৌলমারি ইউনিয়নের ২৫ থেকে ৩০টি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার কৃষক হাসানুল ইসলাম বলেন, ঝড়ের সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়তে শুরু হয়, কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেছে। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আলুতে আগে ক্ষতি, এখন আবার অন্য ফসলও শেষ।
ডোমার খুড়িবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ও বৃষ্টির সঙ্গে ছোট ও মাঝারি সাইজের শিলাবৃষ্টিতে কলা ও মরিচের খেত মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

ডিমলা উপজেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরও বাড়তে পারে।
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা করা হবে।
আমিরুল হক/এএইচ/এএসএম