তাড়াশ পৌরসভা
ব্যয় সাড়ে ৮ কোটি, দুই মাস না যেতেই রাস্তায় ধস
নির্মাণের দুই মাস না যেতেই রাস্তার গাইড ওয়ালে ধস দেখা দিয়েছে। ছবি-জাগো নিউজ
নির্মাণের দুই মাস না যেতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভায় আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭টি আরসিসি রাস্তার গাইড ওয়ালে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় বুধবার (২৫ মার্চ) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন রিপন সরকার নামের এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়।
রিপন সরকার পৌরসভার তাড়াশ (থানা পাড়া) মহল্লার মৃত আব্দুল আজিজ সরকারের ছেলে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ পৌরসভায় আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭টি আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এ রাস্তা নির্মাণের দুই মাস না যেতেই গাইড ওয়ালে ধস ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সোহাগ রানার সঙ্গে যোগসাজশ করে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, শর্ত অনুযায়ী ১৭টি আরসিসি রাস্তায় ছয় ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও তিন ইঞ্চি দেওয়া হয়েছে। চার ইঞ্চি দূরত্বে রড দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১২ ইঞ্চি পরপর। শুধু তাই নয়, গাইড ওয়াল নির্মাণে ১২ মিলি রডের স্থলে কিছুই দেয়নি। প্যালাসাইডিং রডেও রিং দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের ইট-খোয়া, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার খুঁটিগাছা রাস্তার গাইড ওয়ালে ধস ও ভাদাশ পশ্চিমপাড়া রাস্তার ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। কহিত আম্বারিয়া রাস্তায় কিছুটা গাইড ওয়াল নির্মাণ বাদ রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাস্তা তুলনামূলক সরু।

খুঁটিগাছা গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই গ্রামের রাস্তা নির্মাণের ৫০ দিন পার হয়েছে। অথচ এখনই গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। পুরো রাস্তা একই অবস্থা।’
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ মালেক/এসআর/এমএস