ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া, ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে দুই পা ভাঙলো নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে মেহেরুন নেছা পারুল (৩০) নামের এক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এতে তার দুই পা ভেঙে গেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের উপর পোঁওতা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই নারীকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরুন নেছা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দীঘির ডাঙ্গাপাড়ার মৃত ছাবের আহমেদ ও মাহমুদা বেগম দম্পতির মেয়ে। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবালা গ্রামের রাকিব মোল্লার তৃতীয় স্ত্রী। পারুলেরও এটি তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর পারুল তার স্বামী রাকিব মোল্লার সঙ্গে ঢাকার কল্যাণপুর এলাকায় বসবাস করেন। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাকিব মোল্লা স্ত্রী পারুলকে বাবার বাড়িতে রেখে যাওয়ার জন্য ট্রেনে সান্তাহারে আসেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাকিব অন্য ট্রেনে ঢাকার দিকে চলে যান।

পারুল রাত সাড়ে ৩টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের নিচে শুয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ ও রেলের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে যেতে চাইলে সবাই তাকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে ট্রেনে তুলে দেন।

ট্রেনটি সান্তাহার পৌর শহরের উপর পোঁওতা এলাকায় পৌঁছলে পারুল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বগির দরজার কাছে যান। এরপর তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান জানান, চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় পারুলের দুই পা ভেঙে গেছে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

মেয়ের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোপ প্রকাশ করেন মা মাহমুদা বেগম। সোমবার বিকেলে সান্তাহারে পৌঁছানোর পর তিনি বলেন, বহু বিয়ের ঘটনায় মেয়ের সঙ্গে তিনি কোনো সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি মেয়ের তৃতীয় স্বামীর নামও তারা জানেন না।

এসআর/এএসএম