ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাঠে পড়ে আছে সোনার ফসল, পুরুষশূন্য গ্রামে কৃষি কাজে নারীরা

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০১:৪৯ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬

মাঠজুড়ে ধান, আলু ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এসময় ধান কেটে ঘরে তোলার কথা। কিন্তু মাঠে নেই কৃষকের ব্যস্ততা। ফসল প্রস্তুত, অথচ ঘরে তোলার মানুষ নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামে এখন এমনই এক অস্বাভাবিক বাস্তবতা। যেখানে মাঠ ভরা ফসল আছে, কিন্তু নেই কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ পূর্ববিরোধের জেরে গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কাশেম ও রহিম তালুকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই গ্রামগুলো কার্যত পুরুষশূন্য। গ্রেফতার এড়াতে পুরুষরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে থমকে গেছে পুরো জনজীবন।

এই ঘটনার জেরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পাঁচ গ্রামের কৃষিখাতে। গোয়ালনগর, সিমেরকান্দি, মাছমা, দক্ষিণদিয়া ও লালুয়ারটুক এই পাঁচ গ্রামে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। প্রায় ছয় হাজার কৃষক আশপাশের চারটি হাওরে ১০ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে ধান পেকে গেছে, পুরো হাওর সোনালি হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি, সামনে কালবৈশাখীর আশঙ্কা। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে উজানের ঢল ও শিলাবৃষ্টিতে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুধু ধানই নয়, আলু, বেগুন, টমেটো, কুমড়া, মরিচ, বাদামসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলও জমিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষি কাজ করতে হচ্ছে নারীদের।

কৃষক হাসান মিয়ার স্ত্রী জরিনা খানম বলেন,‘স্বামী বাড়ি নাই। দুই বিঘা ধান, এক বিঘা আলু। কিছুই তুলতে পারতেছি না। এই ফসলই আছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।’

মাঠে পড়ে আছে সোনার ফসল, পুরুষশূন্য গ্রামে কৃষি কাজে নারীরা

নাজমা আক্তার জানান,‘পুরুষ মানুষ না থাকায় আলুর ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমি ও আমার বোন মাঠে নামছি।’

মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আর এক সপ্তাহ পর ধান কাটন লাগবো। পুরুষের কাজ কি আমরা পারমু? ফসল না পাইলে না খাইয়া মরতে হইব।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষে ট্রিপল মার্ডারের জেরে পাঁচ গ্রামজুড়ে অস্বাভাবিক নীরবতা। দিনের বেলায় নারীরা মাঠে কাজ করলেও রাত নামলেই বাড়ে আতঙ্ক। বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীরা বেশি আতঙ্কে রয়েছেন, এমনই দাবি বাড়িতে থাকা নারীদের।

খোরশেদা বেগম বলেন, ‘রাতে মুখে কাল কাপড় পরে পুরুষ মানুষ আসে। ভয় পেয়ে দুই মেয়ে লইয়া পাশের গ্রামে আশ্রয় নিছি। দিনে এসে জমিতে কাজ করি, আবার চলে যাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি পুলিশ দল গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও কোনো লাভ হয় নাই।’

তবে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখনো কোনো পক্ষ মামলা করতে থানায় আসেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, গোয়ালনগরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ/জেআইএম