ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ট্রেন লাইনচ্যুত

১৪ ঘণ্টা ধরে বন্ধ সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ

জেলা প্রতিনিধি | সিলেট | প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লাইনচ্যুত হওয়া ৬টি বগির মধ্যে চারটি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ে, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে রেললাইন মেরামতের কাজ। বেলা ২টার দিকে স্বাভাবিক হতে পারে ট্রেন চলাচল।

এদিকে, তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সিলেট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গলে গিয়ে আটকা পড়েছে। তাছাড়াও সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও এখনও সিলেট স্টেশনেই যাত্রী নিয়ে অপেক্ষা করছে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি ব্রিজের কাছে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার ওয়াগনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুত মধ্যে একটি পাশের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দুটি ওয়াগন থেকে তেল বের হতে শুরু করলে স্থানীয়রা তা সংগ্রহ করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলে ভিড়ের সৃষ্টি হয়।

রাত ২টা ১০ মিনিটে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্লিপার, লাইনের নিচে পর্যাপ্ত মাটি ও পাথরের অভাব, এবং সিঙ্গেল লাইনের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের আশঙ্কা, যাত্রীবাহী ট্রেন হলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।

এদিকে, রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রধান করে দুর্ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে আখাউড়া ও ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী টিম এসেছে। কিন্তু তাদের সব সুযোগ-সুবিধা না থাকায় একটি ক্রেনে করে উদ্ধার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, তেলবাহী বগি লাইনচ্যুত হওয়া তিনটি ট্রেনের শিডিউল বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, লাইনচ্যুত বগির উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। বেলা ২টা নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। তবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে কালনী এক্সপ্রেস সিলেট ছেড়ে গেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস অপেক্ষমাণ রয়েছে।

আহমেদ জামিল/এনএইচআর/জেআইএম