ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তেলের অভাবে মিলছে না গাড়ি, মাঠেই পড়ে থাকছে স্ট্রবেরি

সোহান মাহমুদ | প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্ট্রবেরি চাষিরা। ডিজেলের তীব্র সংকটে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারগুলোতে স্ট্রবেরি পাঠানো এখন অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

সরেজমিনে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালোপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আকারে স্ট্রবেরির চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের চারা ব্যবহারের ফলে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারজাতকরণে সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটেনি। বরং জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

কালোপুর গ্রামের স্ট্রবেরি চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, স্ট্রবেরি একটি দ্রুত পচনশীল ফল। সাধারণত সংগ্রহের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এটি বাজারজাত করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি করা না গেলে ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং তা আর বাজারে বিক্রির উপযোগী থাকে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন সংকটের কারণে সেই সময়সীমা মেনে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

তেলের অভাবে মিলছে না গাড়ি, মাঠেই পড়ে থাকছে স্ট্রবেরি

পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাকসহ ছোট আকারের পরিবহনগুলো ডিজেলের অভাবে রাস্তায় নামতে পারছে না। অনেক চালকই জ্বালানি না পেয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন। ফলে কৃষকদের উৎপাদিত স্ট্রবেরি মাঠে পড়ে থাকছে অথবা বাধ্য হয়ে স্থানীয় হাটবাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় স্ট্রবেরি চাষি আজিম উদ্দিন বলেন, বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে এই স্ট্রবেরি চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি উৎপাদনে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক মজুরি ও জমি প্রস্তুতসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অনেক কৃষক ব্যাংক ঋণ বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই চাষে নেমেছেন। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে তারা বিনিয়োগের টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

আরেক স্ট্রবেরি চাষি নাদিম আলী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এ বছর ভালো লাভ হবে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু এখন গাড়ি পাচ্ছি না, ডিজেল নেই। ঢাকায় পাঠাতে পারছি না। স্থানীয় বাজারে যে দামে বিক্রি করছি, তাতে খরচই উঠছে না। আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে স্ট্রবেরি বিক্রি হত। এখন দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০ টাকায়।’

স্থানীয় বাজারেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে স্ট্রবেরির দাম কমে গেছে। পাইকাররা কম দামে পণ্য কিনে নিচ্ছেন। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমন্বয় না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তেলের অভাবে মিলছে না গাড়ি, মাঠেই পড়ে থাকছে স্ট্রবেরি

তবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু স্ট্রবেরি চাষেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়েছে আম চাষেও। আম গাছে কীটনাশক ছিটানোর জন্য ব্যবহৃত স্প্রে মেশিনগুলোও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে এসব মেশিন ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না।

ফলে সময়মতো বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে, যা আমের উৎপাদন ও গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, যথাসময়ে পরিচর্যা করা না গেলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়তে পারে এবং এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু স্ট্রবেরি চাষেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্যান্য শাকসবজি ও ফলমূল পরিবহনেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে পচনশীলতার কারণে স্ট্রবেরি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

এফএ/জেআইএম