লালমনিরহাট
পথে পথে তেল নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস
বাসে জ্বালানি ভরা হচ্ছে। ছবি-জাগো নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে লালমনিরহাটের জ্বালানি তেলের বাজারে। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন লালমনিরহাট থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন বাসমালিক ও চালকরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড় বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে যাতায়াত করতে একটি বাসের গড়ে প্রায় ২৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্থানীয় পাম্পগুলো থেকে বাসপ্রতি মাত্র ২০-২৫ লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বিপুল ঘাটতি নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে চালকদের।

পথে পথে বিভিন্ন পাম্পে দাঁড়িয়ে ৫, ১০ কিংবা ২০ লিটার করে তেল সংগ্রহ করে কোনোমতে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে বাসগুলো। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা ৭৭ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
ফাহমিদা নামের একটি বাসের সুপারভাইজার জেনিথ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘তেলের তীব্র সংকট চলছে, কোথাও ঠিকমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। লালমনিরহাটের যে পাম্প থেকে নিয়মিত তেল নিতাম, তিনদিন ধরে সেখানে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছি না। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল মেইনটেইন করার পর পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তেল নেই। বাধ্য হয়ে যাত্রাপথে বিভিন্ন পাম্প থেকে ৫-২০ লিটার করে তেল নিয়ে কোনোমতে যাত্রীসেবা চালু রেখেছি।’
একই কথা জানান পিংকি পরিবহনের চালক মেহেদী হাসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা যাতায়াতে আমাদের ২৫০ লিটার তেল লাগে, অথচ পাম্প থেকে দিচ্ছে মাত্র ২০ লিটার। এই সামান্য তেলে কোনোভাবেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। পথে পথে বিভিন্ন পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীরাও মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’

কথা হয় লালমনিরহাটের বিনিময় তেল পাম্পের ম্যানেজার রাসেল সরকার রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে যে পরিমাণ ডিজেল পেতাম, এখনো তা-ই পাচ্ছি। তবে ভোক্তাদের চাহিদা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। আগে ৬-৯ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতো। এখন তিন-চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল শেষ হয়ে গেলে তো আর দেওয়ার কোনো উপায় থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নৈশকোচ বা ঢাকাগামী বাসগুলোকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তেল শেষ হলে এই বাসগুলো বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশের অন্যান্য পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হয়। নিয়মিত তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে বাসগুলোকে আর বিভিন্ন জেলায় লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হতো না। যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।’
এসআর/জেআইএম