ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি | মেহেরপুর | প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের দুর্ভোগ যেন সীমাহীন হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে মোটরসাইকেল, কৃষক এবং অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক চালক রাত থেকে লাইনে অবস্থান নিচ্ছেন, তবুও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে একেকজনকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে চালকদের বারবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, এত কম পরিমাণ তেল নিয়ে দৈনন্দিন কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা বেসরকারি চাকরি করেন বা অন্যান্য যানবাহন চালান, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মোটরসাইকেল চালক সোহানুর রহমান বলেন, রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। এত কষ্ট করে ৩০০-৪০০ টাকার তেল নিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে সংসারের অন্যান্য কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তি

আরেকজন চালক হাফিজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন একই অবস্থা। কখন তেল পাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের সময় ও শ্রম দুটো নষ্ট হচ্ছে।

শুধু যানবাহন চালকরাই নন, এ সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। সেচকাজের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা প্রয়োজনমতো জ্বালানি না পেয়ে চাষাবাদে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে বলছেন, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক রিমন হোসেন জানান, আমাদের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল খুব দরকার। কিন্তু এখন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগে থেকে নানা সমস্যার মধ্যে আছি, তার ওপর এ জ্বালানি সংকট নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সদর উপজেলার ইছাখালি গ্রামের আরেক কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছর সার সংকটের কারণে আবাদ ঠিকমতো করতে পারিনি। এবার তেল সংকটের কারণে বড় দুশ্চিন্তায় আছি, ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারব কি না।

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের আরেক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিদিন ৮ লিটার ডিজেল লাগে। আমাকে দেওয়া হয়েছে ৩ লিটার। একদিকে প্রতিদিন সময় নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে প্রয়োজনমতো ডিজেল পাচ্ছি না।

মেহেরপুর গাড়াডোব গ্রামের ট্রাক্টরচালক শফিকুল ইসলাম জানান, তেলের কারণে তিন দিন জমি চাষ করতে পারিনি। আজ রাত ৩টা থেকে অপেক্ষা করছি। তারপরও তেল পাব কি না জানি না।

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ভোগান্তি

একই কথা জানালেন সদর উপজেলার রাধাক্রান্তপুর গ্রামের পাওয়ার টিলার চালক আকরাম হোসেন।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ কম থাকার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।

মেহেরপুর নূর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিজেরাও বিপাকে আছি। চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। তাই সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উপর থেকে যদি সরবরাহ বাড়ানো না হয়, তাহলে এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায়।

এদিকে হঠাৎ করে জ্বালানি সংকটের কারণে জনমনে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন ব্যবস্থা ও কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আসিফ ইকবাল/আরএইচ/এএসএম