ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মোটরসাইকেল চালকদের চাপে পাম্প, ডিজেল নিতে এসে বিপাকে কৃষক

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার প্রধান ডিপোগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অর্ধেকেরও কম পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের চাপে চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না স্থানীয় কৃষকরা। যা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকার রেজাউল ফিলিং স্টেশন ও আরিফ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি। কেউ কেউ মধ্যরাত থেকে জ্বালানি তেলের জন্য পাম্প এলাকায় অবস্থান করেছেন। তারপরও গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একাধিক ফুয়েল পাম্পেও গ্রাহকদের ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র পায়রা চত্বরের এমএ কালাম ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি কমছে না। প্রতিদিন ফুয়েল পাম্পগুলোতে গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার অকটেন-পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পাম্প মালিকেরা।

একইভাবে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল নিতে পাম্পগুলোতে কৃষকদের ভিড় বেড়েছে। সেই সঙ্গে ডিজেলচালিত নসিমন, ভটভটি, লাটাহাম্বা (আঞ্চলিক যান) গাড়ির চালকরাও ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ তেল পাচ্ছেন ডিজেলের গ্রাহকরা। ফলে সেচ কাজ, কৃষি কাজ ও কৃষি পরিবহনও থমকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে কৃষকদের মাঝে।

কৃষক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, বাস-ট্রাকগুলো কোনো লাইনে না দাঁড়িয়েই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। শহরের গাড়িগুলো পাম্পে এসে হরহামেশা তেল নিতে পারছে। আমরা গ্রাম থেকে ডিজেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও প্রয়োজন মতো তেল পাচ্ছি।

মোটরসাইকেল চালকদের চাপে পাম্প, ডিজেল নিতে এসে বিপাকে কৃষক

শিকদার আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, মাটি কাটার ভেকু গাড়ি ও মাটি টানার ট্র্যাক্টরের মালিকরা ড্রামে ভরে তেল নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা তেল চাইলে পাম্প থেকে নানান কথা বলা হচ্ছে। ৫ লিটার চাইলে ৩ লিটার দিচ্ছে। কৃষকের কষ্ট কোনো দিন যাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ফুয়েল পাম্পগুলো খুলনার যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো থেকে তেল ক্রয় করেন। ডিপো থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। আগে যেসব পাম্প ১২ হাজার লিটার ডিজেল ডিপো থেকে পেতো, সেই পাম্পগুলো এখন প্রতি চালানে ৮ থেকে ৯ হাজার লিটার ডিজেল পাচ্ছে। এ ছাড়া অকটেন ও পেট্রোল চাহিদার অর্ধেক পাচ্ছে ফুয়েল পাম্পগুলো।

এমএ কালাম ফুয়েল পাম্পের মালিক হাসু মিয়া জানান, আগে ২ হাজার লিটার অকটেন পেট্রোল নিয়ে এলে তা শেষ করতে ৫ থেকে ৬ দিন লাগতো। এখন ৩/৪ ঘণ্টায় তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালকরা বেশি বেশি তেল সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কয়েকটি পাম্পের কর্মচারী অভিযোগ করে জানান, আগে যেসব মোটরসাইকেল চালক ২ থেকে ৩শ’ টাকার পেট্রোল-অকটেন নিতেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সেই সব চালকরা দিনে হাজার টাকার ওপরে তেল নিচ্ছেন। তারা দুই একদিন পরপরই এসে গাড়ি ভরে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এতো তেল দুই দিনে বাইক চালিয়ে শেষ করা অসম্ভব।

পাম্প কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, যুদ্ধের কারণে মানসিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণে মানুষ বেশি বেশি তেল কিনছেন। সেই তেল বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন অনেকেই।

জ্বালানি তেলের জন্য শহরের একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেল চালক সাইফুল আলম বলেন, আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। প্রতিদিন গড়ে ৮০/৯০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। তেল লাগে দিনে দুই লিটারের মতো। কিন্তু আমরা তেল পাচ্ছি ৩০০ টাকার। অনেক অল্প বয়সী ছেলেরা প্রতিদিন ঘুরে ফিরে শহরের সব ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিচ্ছে। দেখার কেউ নেই।

অর্নব হাসান রিতু নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, শহরের পাম্পে এসে নির্ধারিত দামে তেল কিনতে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অসাধু একটি চক্র প্রতিদিনই লাইনে দাঁড়িয়ে বেশি পরিমাণে তেল নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।

ঝিনাইদহ ফুয়েল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল-অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ প্রতিদিন তেল কিনছে। এই প্রবণতা আগে ছিল না। তারা কেন ঘুরেফিরে প্রতিদিন তেল কিনছে এটা আমরা বলতে পারব না। আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ পাচ্ছি, তা মানুষের মাঝে সরবরাহ করছি।

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই ও হেলমেটধারীদের তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করা দরকার। এটা প্রশাসনকে করতে হবে। ডিজিটাল স্ক্যানারের আওতায় মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ে আসা উচিত। তা না হলে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

এম শাহাজান/কেএইচকে/জেআইএম