ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শরীয়তপুর

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে-জমা দিতে বিএনপিপন্থিদের বাধা

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলপন্থি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলে বাঁধার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গেলে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) খসড়া ভোটার তালিকা ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলের শেষ দিন ধরা হয়েছিল রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। তবে এদিন সকাল থেকে দরজায় অবস্থান নেওয়া আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা ও বহিরাগতরা মিলে অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন কিনতে বাধা দেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবীরা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনতে সমিতির সম্মেলন কক্ষে যান এনসিপিপন্থী আইনজীবী মোসলেম খান। প্রথম দফায় তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি বিএনপি কিছু নেতাকর্মী। একপর্যায়ে তাকে টেনে তার চেম্বারে নিয়ে যান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি পুনরায় মনোনয়নপত্র কিনতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গলাধাক্কা দিয়ে সমিতি থেকে বের করে দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু আইনজীবী ও বহিরাগতরা।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি স্বৈরাচারকে সমর্থন করি না। এরপরেও আমাকে মনোনয়ন ক্রয় করতে দেয়নি আইনজীবী ফোরামের লোকজন। তারা এককভাবে আইনজীবী সমিতির পদ দখল করবেন। আমাদের আইনজীবীদের অধিকার হরণ করা হয়েছে।

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে-জমা দিতে বিএনপিপন্থীদের বাধা

ইসলামী আন্দোলনপন্থী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি অভিযোগ করেন, সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির নিজে ওই প্রার্থীর চেম্বারে এসে মারধর করেছেন। মুরাদ মুন্সি বলেন, ‘আমি কার কাছে বিচার দেবো। একটা ঘটনা ঘটলে বা কোনো প্রার্থী মারধর করলে নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিচার দিতাম, সেখানে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনার এসে আমাকে মারধর করেছে। আমার দল শান্তিপ্রিয় দল, তারা যদি এভাবে আমাদের মারধর করে তাহলে আমাদের আস্থার জায়গা আর রইলো না।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নব আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি অডিট সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গিয়েছিলাম। সেখানে বিএনপির সমর্থিত লোকজন বহিরাগতদের এনে আমাদের বাধা প্রদান করেছে। একপর্যায়ে আমরা চলে আসতে বাধ্য হই। এটা আমরা কখনোই আশা করিনি।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, ঢাকা বার হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বার। পার্লামেন্টে ফ্যাসিবাদীদের দোসরদের বিরুদ্ধে যে আইন পাশ হয়েছে তারপরে সেখানে তারা আর মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি। সেই সুবাদে আমাদের নির্বাচনে যারা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ তারা বাদে সবাই মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। আমরা কাউকেই বাধা প্রদান করিনি।

এদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, আমরা সকাল থেকেই আইনজীবী সমিতির সম্মেলন কক্ষে ছিলাম। কারো চেম্বারে গিয়ে মারধরের প্রশ্নই ওঠে না। কেন এমন অভিযোগ করেছে আমি জানি না।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সুষ্ঠুভাবেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। আমরা সম্মেলন কক্ষেই ছিলাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। আমরা সামনেই উপস্থিত ছিলাম।

বিধান মজুমদার অনি/এমএন/এমএস