কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনা
শোকে স্তব্ধ নিশিবাপুর গ্রাম, একসঙ্গে চারজনের জানাজা
দিনাজপুরের নিশিবাপুর মাদরাসা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি-জাগো নিউজ
চার খাটিয়ায় চারটি মরদেহ। খাটিয়াগুলো পাশাপাশি রাখা। কিছুক্ষণ পরে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়। এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হলেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার নিশিবাপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নিশিবাপুর মাদরাসা মাঠে চারটি মরদেহের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাফেজ রিয়াজুল ইসলাম তাদের জানাজা পড়ান।
জানাজার আগে নিহতদের মরদেহ কাফনে মোড়ানো অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে নিশিবাপুর মাদরাসা মাঠে রাখা হয়। এসময় স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ওই এলাকার পরিবেশ।

এর আগে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা উপজেলার হাসানপুরে তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে চট্টগ্রামমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জনের মধ্যে সাতজনই মারা যান। আহত হন আরও ছয়জন। নিহতদের মধ্যে চারজন বিরামপুর উপজেলার। বাকি তিনজন নবাবগঞ্জ উপজেলার।
নিহতরা হলেন আব্দুল রশিদ (৬৮), পলাশ হোসেনের ছেলে ছেলে সুমন (২১), ছইফুদ্দিনের ছেলে বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৬৮), নবাবগঞ্জ খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫)।
আরও পড়ুন: ‘এখন আমি কীভাবে বাঁচবো’ স্বামীকে হারিয়ে লাইলি বেগমের আর্তনাদ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইদিন সকাল ১০টার দিকে বিরামপুর উপজেলা সীমান্তঘেঁষা নিশিবাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে কুমিল্লায় রওয়ানা হন একই গ্রামের চারজন। বিরামপুর শহরে নবাবগঞ্জ উপজেলার তিনজন তাদের সঙ্গে যোগদেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামগামী একটি চালের ট্রাকের ওপরে বসে দুপুর নাগাদ রওয়ানা হন তারা। পরে রাত সোয়া ৩টার দিকে মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা আব্দুল রহিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসঙ্গে এতজনের জানাজা আমরা আগে কখনো দেখিনি। এটা আমাদের জন্য এক গভীর শোকের দিন।’
এদিকে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রত্যেক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান রাজা মাস্টার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ তুলে দেন।
মো. মাহাবুর রহমান/এসআর/জেআইএম