জীবন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
পাবনায় চাঞ্চল্যকর জীবন কুমার হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুজনকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক লিয়াকত আলী মোল্লা এই রায় দেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- পাবনা শহরের শালগাড়িয়া মহল্লার নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে তাপস কুমার (৩০), আব্দুল জলিল দিপুর ছেলে আমিনুল ইসলাম মিন্টু (২৮), অনিল চন্দ্রর ছেলে মানিক চন্দ্র (২৭) ও স্বপন বসাকের ছেলে সুমন ওরফে ঘেটু (৩০) ও সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের ইসহাক আলী শেখের ছেলে ইমরান শেখ (২৫)।
খালাসপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন শালগাড়িয়া মহল্লার আব্দুস সালামের ছেলে প্রিন্স (৩০) ও মুকুল মাস্টারের ছেলে পনু (২৮)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া মহল্লার দুলাল কুমারের ছেলে জীবন কুমারকে তার সহপাঠীরা ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর তার মরদেহ পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শহীদ মিনারের পেছনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ২৭ জানুয়ারি স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে সেখান থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিনই নিহতের বাবা দুলাল কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুন্সী আব্দুল কুদ্দুস জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হত্যার বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করেন। তদন্তের একপর্যায়ে জীবনের বন্ধুদের আটকের পর হত্যার বিষয়টি জানা যায়। এসময় তিনি আসামিদের ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন এবং জড়িতদের সম্পর্কে জানতে পারেন। তদন্ত শেষে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেন।
আদালতের বিচারক লিয়াকত আলী মোল্লা মামলাটির দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রিন্স ও পনুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলাটি পরিচালনা করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি অ্যাড. আব্দুর রকিব ও আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. কাজী সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও অ্যাড. সনৎ কুমার। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সাংবাদিকদের বলেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
একে জামান/এআরএ/আরআইপি