ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফোন করলেই বাড়ির দরজায় অ্যাম্বুলেন্স হাজির

প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

দুপুর থেকে শুরু হয়েছে ব্যাথা। কোল জুড়ে আসবে ফুটফুটে একটা সন্তান। এই আশায় কষ্ট করে ব্যাথা সহ্য করছিলেন। ৪/৫ ঘণ্টায় যখন প্রসব হলো না ঠিক করলেন ডাক্তারের কাছে যাবেন। তখন বিকেল ৩টা। ফোন করে চার্জার ব্যাটারিচালিত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে নেয়া হলো হাসপাতালে। মেয়ের অবস্থা দেখে ডাক্তার সিজার করতে বললেন। আমরাও সিজার করতে রাজি হয়ে গেলাম। সিজার করে ছেলে সন্তানের জন্ম দিল বর্ষা।

কথাগুলো বলছিলেন বর্ষার মা সুফিয়া বেগম। নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম রামরামপুরে তাদের বসবাস। প্রথম সন্তান হবে এজন্য মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাস আগে নিয়ে এসে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ধামইরহাটে হয়তো ভালো ডাক্তার পাওয়া নাও যেতে পারে। এজন্য একটু দূরে জয়পুরহাটে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন যদি সময় মতো অটো চার্জার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া না যেত তাহলে মেয়ের বড় বিপদ হতে পারতো বলে জানালেন তিনি।

একই গ্রামের শফির উদ্দিনের স্ত্রী আরজিনা বেগম। স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব না হওয়ায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে অটো চার্জার ব্যাটারিচালিত অ্যাম্বুলেন্সে করে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ক্লিনিকে গিয়ে সিজার করানো হয়।

Ambulance

আরজিনা বেগম বলেন, চার্জার ব্যাটারিচালিত অ্যাম্বুলেন্স শুধু আমাকেই সাহায্য করেনি গ্রামের অন্য রোগীদের সাহায্য করে থাকে। বিপদ-আপদ, রাত বিরাত যেকোনো সময় ফোন করা হলে চালক অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাড়ির দরজায় এসে হাজির হোন।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গত দুইমাস আগে নওগাঁর ধামইরহাটে আটটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়। স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ইজিবাইককে (ব্যাটারি চালিত চার্জার) অ্যাম্বুলেন্সে রূপ দেওয়া হয়েছে। নীল রঙের এ অ্যাম্বুলেন্সের নাম দেওয়া হয়েছে “মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা অ্যাম্বুলেন্স”।

ছাদে ঘুর্ণায়মান লাল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে এবং সাইরেন বাজিয়ে গ্রামের কাঁচা-পাকা সড়কে ছুটে চলছে এই অ্যাম্বুলেন্সটি। অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা পাওয়ার জন্য এর গায়ে একটি মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে। ওই নাম্বারে ফোন দিলে চালক নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাবে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে।

সরেজমিনে উপজেলার আড়ানগর, উমার, জাহানপুর এবং ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে দেখা যায়, জেলার ধামইরহাট উপজেলা-জয়পুরহাট জেলার প্রধান সড়কে চালকরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাত্রী বহন করছেন। রোগী সেবা দেয়ার পর অন্য সময় যাত্রী বহন করে থাকেন। এতে অতিরিক্ত কিছু টাকা পান চালক। যেসব রোগী অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিয়েছেন তার বেশির ভাগই ভাড়া দেননি। কারণ অ্যাম্বুলেন্স সরকার থেকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রচার প্রচারণা না থাকায় এলাকার অনেকেই এখনো অ্যাম্বুলেন্সের এ সেবা সম্পর্কে জানেন না।

ফতেপুর বাজারে যাত্রী বহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু সোবহান। তিনি জানান, রোগীর জন্য যেকোনো সময় ফোন করলে তার বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন। অ্যাম্বুলেন্সটি সরকারি বলে অনেক রোগী ভাড়া দেননা। মাসিক নির্দিষ্ট কোনো বেতন না থাকায় অন্য সময় যাত্রী বহনে ভাড়া থেকে কিছু টাকা আয় হয়।

Ambulance

ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এলজিএসপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করা হয়েছে। অবহেলিত গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষরা অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাচ্ছেন। মাত্র ১০০ থেকে ১৫০টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু রোগী সবসময় হয়না এজন্য চালককে যাত্রী বহনের জন্যও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

আড়ানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী কমল জানান, গ্রামের লোকজন এখনো এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবা সম্পর্কে জানেন না। তাদেরকে অবগত করার জন্য মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হবে। যাতে তারা বুঝতে পারে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। এ পর্যন্ত তার ইউনিয়নের প্রায় দেড়শ রোগী এর সেবা নিয়েছে।

তিনি আরো জানান, একটি ভাল কাজ করতে গেলে পক্ষ-বিপক্ষ দুটোই থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদে অ্যাম্বুলেন্সটি রাখার জায়গা না থাকায় এর চালকের বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের ক্রুটি হলে এবং চার্জ দেয়ার দায়িত্ব চালককেই দেয়া হয়েছে।

এফএ/এমএস

আরও পড়ুন