ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৬

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ১৮ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ২৩ সে.মি. এবং করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে ১২ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই চারটি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের ১৭৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ জন। এছাড়া ওই চার উপজেলায় ১০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে ১ হাজার ২২০ জন বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত মানুষের জন্য ২০০ মে. টন চাল এবং ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণও শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সামাজিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। এ বরাদ্দ বিভাজন করা হলে বন্যার্ত প্রতিজনের ভাগ্যে যা জুটবে তা অতি নগন্য। তারা বন্যা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।

এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকায় নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। মাঠ-ঘাট প্লাবিত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আমিরুল ইসলাম জানান, বন্যা দুর্গত চারটি উপজেলায় পানি ঢোকার কারণে ৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি না হওয়ায় ক্লাশ হচ্ছে না।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার বলেন, সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া ফুলছড়ির জিগাবাড়ি, চন্দনস্বর হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসায় পানি উঠলেও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, ঘাঘট নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনে সাদুল্যাপুর-লক্ষ্মীপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূরাণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে।

অমিত দাশ/এসএস/এবিএস

আরও পড়ুন