ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আমরাও মানুষের মতো বাঁচতে চাই

প্রকাশিত: ০৪:৩৯ এএম, ২৯ জুলাই ২০১৬

‘অনেকে আমাদের দেখলে হিজড়া বলে দৌড়ে পালিয়ে যায়, মানুষ আমাদের ভয় না পাক’ আমরাও সবার ভালোবাসা নিয়ে মানুষের মতো বাঁচতে চাই। আমি তো ইচ্ছা করে হিজড়া হইনি, আল্লাহ আমাকে হিজড়া বানিয়েছেন। আমার কি দোষ?’ এ কথাগুলো বলে দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল সখী (২৬) নামের এক হিজড়ার।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মেড্ডাস্থ জেলা সমাজ সেবা অধিদফতর চত্বরে সখীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে সখীসহ ৫০ জন হিজড়াকে বিনামূল্যে রূপচর্চার উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সমাজসেবা অধিদফতর।

প্রশিক্ষণের ফাঁকেই কথা হয় আরেক হিজড়া আশার (২৫) সঙ্গে। সে জানায়, জন্মের পর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন আমার মধ্যে শারীরিক ও আচরণগত দিক দিয়ে কিছুটা পরিবর্তন আসে তখন আমার পরিবারের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি বাড়িতে থাকলে নাকি তাদের সম্মান থাকবে না। তাই আমিও স্বাধীনভাবে চলতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি।

এখন আমি বাকি হিজড়াদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠনে নাঁচ-গান করে জীবিকা নির্বাহ করি। তবে খারাপ লাগে আমি কেনো সবার মতো আমার পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারি না।

B-baria-Hizra

সভ্য সমাজে সবচাইতে বেশি অবহেলিত এ হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ। কোনো বিয়ের আসরে কিংবা গ্রামাঞ্চলে অথবা শহরতলীতে কোন নবজাতক জন্মানোর খবর পেলেই বিনা নিমন্ত্রণে ছুটে আসে তারা। নেচে-গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়ে অর্থ আদায় করে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা তুলেও জীবিকা নির্বাহ করে তারা।

সদা চঞ্চল আর ‘উদ্ভট’ সাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা অবহেলিত এ হিজড়াদের নিয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরে চলছে ৫০ দিনব্যাপী রূপচর্চা বিষয়ক প্রশিক্ষণ। হিজড়াদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে তাদের এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন মনে। জেলা শহরের স্বনামধন্য রূপচর্চা বিশেষজ্ঞ স্মৃতি সবুর এসব হিজড়াদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

স্মৃতি সবুর জাগো নিউজকে জানান, হিজড়ারা মূলত সাজতে এবং সাজাতে খুবই পছন্দ করে। তাই রুপচর্চার উপর এই প্রশিক্ষণটি তাদের স্বনির্ভর হতে অনেক কাজে আসবে। গত ঈদ-উল-ফিতরে তারা মানুষকে সাজিয়ে দিয়ে অনেক টাকা উপার্জন করেছেন বলেও জানান তিনি।

হিজড়াদের এ প্রশিক্ষণের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জানান, হিজড়ারা এক প্রকার ভবঘুরে জীবন-যাপন করে। তাদের আয়ের নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম নেই। তাই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ থেকে লব্ধজ্ঞান দিয়ে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠবে।

এসএস/পিআর

আরও পড়ুন