৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১০টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ লোকের ভরসাস্থল এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
৩২ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। এছাড়া গাইনি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকায় জটিল প্রসূতিসেবাসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে পাঁচ বছর থেকে। এতে উপজেলাবাসী সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বার বার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগে ৩২ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে ৯ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে গাইনি বিভাগে পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসক ও অবেদনবিদ নেই। ফলে বিভাগটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি ২০১২ সালের মার্চে বিকল হয়ে যায়। এর মধ্যে একবার দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিক করা হলেও দুই মাসের মধ্যেই সেটি আবার নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।
হাসপাতালে আসা কুশাপুকুর গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, তার সর্দি-জ্বর হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় সকাল ১০ টায় লাইনে দাঁড়িয়েও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাত হয়নি।
ইটালি গ্রামের সমেরন সরকার জানান, তাদের গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। আর নওগাঁ সদর হাসপাতাল আরো ৩৫ কিলোমিটার দূরে। ছোট-খাটো অসুখে সবার পক্ষে নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয় না। সে জন্যই এই হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন ধরে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়।
সদর এলাকার গৌতম সরকার জানান, দুই বছর আগে অ্যাম্বুলেন্সে করে মহাদেবপুর থেকে নওগাঁয় যেতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং রাজশাহীতে৮০০ থেকে এক হাজার টাকা লাগতো। এখন নওগাঁয় যেতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং রাজশাহী যাওয়ার জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগে। গত দুই/তিন বছর থেকে উপজেলাবাসী এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজিত মন্ডল জানান, কমপ্লেক্সে গাইনি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় জটিল প্রসূতিসেবাসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ এবং ৩২ জনের পদে মাত্র ৯ জন চিকিৎসক থাকা এবং অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে থাকায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ লোকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদারকে জানানো হলে গত সপ্তাহে হাসপাতাল পরিদর্শন করে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ২০১১ সালে হাসপাতালের একমাত্র অবেদনবিদ বদলি হয়ে যান। এর কয়েক মাস পর গাইনি চিকিৎসকও বদলি হন। এরপর থেকেই এখানে সব ধরনের অস্ত্রোপচার ও জটিল প্রসূতি চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়। আর চিকিৎসক স্বল্পতা থাকায় সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান আলাল বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স এবং হাসপাতালটির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত মাসে উপজেলা সমন্বয় সভায় স্থানীয় সাংসদ সেলিম উদ্দিন তরফদারকেও বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জন একেএম মোজাহার হোসেন বলেন, হাসপাতালটিতে জনবলের সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএস/আরআইপি
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে মিরসরাইয়ের টিপু নিহত
- ২ বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমানের জনসভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ২০
- ৩ ৮০% মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না
- ৪ দেশ পরিচালনায় তিন শর্তে ঐক্যের ডাক দিলেন জামায়াত আমির
- ৫ আমরা বেকার ভাতা দেবো না, মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই