ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গণপিটুনিতে পুলিশ নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পুলিশের ধাওয়ায় পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু ও গণপিটুনিতে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহতের ঘটনার তদন্তে পুলিশের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের মামলার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি নিহত মতিনের পরিবারসহ গ্রামবাসীও আতঙ্কে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুজন হলেন সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) ফোরকান শিকদার ও তিনি নিজে। কমিটিকে পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

আবদুল মতিনের স্ত্রী নূরতাজ বেগম জানান, বুধবার বিকেলে তিনি ও তার স্বামী আবদুল মতিন গরুর জন্য খড় আনতে বাড়ির পাশে যান। তখন দুজন লোক সাদা পোশাকে (একজন ছিলেন এএসআই ফখরুল ইসলাম ও অপরজন কনস্টেবল আরিফুর) মোটরসাইকেলে যাচ্ছিল। রাস্তার মধ্যে খড় আনার সময় আমার স্বামীকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিলে সে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। তখন আমি প্রতিবাদ করি। পরে আমার স্বামীও উঠে এর প্রতিবাদ করে।

একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে থাকা দুজন নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে বলে, ‘আমরা পুলিশ আমাদের সঙ্গে তর্ক করিস কত বড় সাহস ধর ওকে। তখন আবদুল মতিন ভয়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়। এসময় মোটরসাইকেলে থাকা (কনস্টেবল আরিফ) পানিতে নেমে মতিনকে চুবাতে থাকে। এক সময় মতিন পানিতে তলিয়ে যায়।’

মতিনের মৃত্যুতে কনস্টেবল আরিফ নৌকা নিয়ে আত্মরক্ষার জন্য বিলের মাঝখানে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী পানি থেকে মতিনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে উত্তেজিত লোকজন কনস্টেবল আরিফকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় সে তীরে উঠতে চেষ্টা করলে তাকে গণপিটুনি দেয় গ্রামের লোকজন। অবস্থা বেগতিক দেখে  মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান এএসআই ফখরুল।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও মারধর করে কনস্টেবল আরিফুরকে হত্যার ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিন তালুকদার।

মামলায় গ্রাম পুরুষশূন্য হওয়ার বিষয়ে ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের দেওয়া নাম নিয়ে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার রাইজদিয়া এলাকায় সোনারাগাঁ থানার এএসআই ফখরুল কনেস্টবল নিয়ে সিভিলে গ্রেফতার অভিযানে আসে। এসময় পানের দোকানদার মতিনকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ধরতে পুলিশ ধাওয়া করে। পুলিশের ধাওয়ায় মতিন একটি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পরে পুলিশ মতিনকে ধরতে পুকুরে নামে এবং মতিনকে চুবিয়ে মারা হয়। এতে এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে এএসআই ফখরুল পালিয়ে যায়। আর পুলিশ কনেস্টবলকে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।
 
শাহাদাত হোসেন/এফএ/পিআর

আরও পড়ুন