ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেরত গেছে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের টাকা

প্রকাশিত: ০৩:৪৩ এএম, ১২ আগস্ট ২০১৬

চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন চাঁদপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড শেষ পর্যন্ত স্থাপিত হলো না। জায়গা দিতে না পারায় গত ৫ বছর যাবৎ এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি ও উচ্চ পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় অবশেষে জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একইসঙ্গে এ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৬ কোটি টাকা ফেরৎ গেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রদীপ কুমার জাগো নিউজকে জানান, চাঁদপুরে হৃদরোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা না থাকায় জেলাবাসী দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে এই হাসপাতালটিতে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের। এই দাবির প্রেক্ষিতে চাঁদপুর-০৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি সরকারের পক্ষ থেকে তদবির করে হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের  জন্য অবকাঠামো নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ আনেন।

কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণে ভূমি জটিলতা বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষের দাবিকৃত চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পেছনের ৯১নং মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার ১নং খতিয়াতভূক্ত .৫৬১১ ও ৫৬১৯ দাগের ০৩৯৩৬ একর ভূমি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালি হতে থাকে। অবশেষে সেই চিঠি চালাচালিও বন্ধ হয়ে যায়।
 
এদিকে ৮/১০ মাস আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে পুনরায় সেখানে উক্ত হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ ও ওই ভবনে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের দাবি জানানো হয়। তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি অতিশিগগিরই সমাধান করবেন বলে কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন।
 
এরপর বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল এ বিষয়ে ভূমি সচিবের (নির্মাণ) সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে সচিবের সঙ্গে দেখা করলে সচিব তাকে যুগ্ম সচিবের কাছে পাঠান। সেখানে যুগ্ম সচিবের অ্যাডমিনিস্টারি অফিসার ভূমি সচিবের (নির্মাণ) কাছে গেলে তিনি ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখা থেকে সাবেক জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ের একটি চিঠি দেখান।

উক্ত চিঠিতে লেখা রয়েছে ‘‘৯১নং মিনিউসিপ্যালিটি মৌজার ১নং খতিয়াতভুক্ত .৫৬১১ ও ৫৬১৯ দাগের ০৩৯৩৬ একর ভূমি পুকুর শ্রেণীর হওয়ায় জলধারা আইন অনুযায়ী জলাশয় ভরাট নীতিমালা পরিপন্থী এবং উক্ত ভূমি নিয়ে বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিধায় প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ যোগ্য নয়’’।

এরপরই সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের কার্যক্রম মূলত বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে সিসিইউ ওয়ার্ড স্থাপন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ এর আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার কোটি কোটি অসহায় মানুষ এর সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/আরআইপি