ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিরিজ বোমা হামলা : ১১ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলা

প্রকাশিত: ০৩:২৫ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৬

আজ ১৭ আগস্ট। ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে শক্তি প্রদর্শন করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এ দিন ঝালকাঠির ৭টি স্থানে বোমা পেতে রাখা হয়।

এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় দু’জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করলেও সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানে অনাগ্রহ থাকায় এখন পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে মারা গেছেন মামলার বাদী। আসামিরাও রয়েছে জামিনে। মামলাগুলোর বিচারকাজ আদৌ সম্পন্ন হবে কিনা তার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ঝালকাঠি কালেক্টরেট, আইনজীবী সমিতি, কোর্ট ভবন, সদর উপজেলা পরিষদ, ফায়ার সার্ভিস, প্রেস ক্লাব এবং কলেজ মোড় এলাকায় বোমা পেতে রেখেছিল জেএমবি। এর মধ্যে তিনটি স্থানের বোমা বিস্ফোরিত হয়।

অন্যগুলো উদ্ধার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিষ্ক্রিয় করার সময় একটি বিস্ফোরিত হয়ে সাংবাদিক দুলাল সাহা ও পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়। এসব ঘটনায় সদর থানার তৎকালীন ওসি সোহবার হোসেন বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা করে। বোমা পাতার সময় বিস্ফোরিত হলে আহতাবস্থায় হাতে নাতে আটক করা হয় স্থানীয় রিকশাচালক ফরিদ হোসেনকে।

পরে স্থানীয় একটি এনজিও পরিচালক জিয়াউর রহমানকেও এ মামলায় বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৭টি স্থানে বোমা রাখার ঘটনায় এ দু’জন বাদে পুলিশ আর কাউকেই চিহ্নিত করেতে পারেনি। যে কারণে ওই বছরের ১৪ নভেম্বর জেএমবির আত্মঘাতী বোমায় দু’বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও শহীদ সোহেল আহমেদ এবং ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল এ দু’বিচারক হত্যা মামলার সরকার পক্ষের কৌসুলী অ্যাড. হায়দার হোসেন জেএমবির গুলিতে নিহত হন।

২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর সিরিজ বোমা হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান আদালতে মামলা দুটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ পর্যন্ত একটি মামলায় ১৫ জনের মধ্যে ৫ জনের এবং অপর মামলায় ২৩ জনের মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী সাক্ষীদের বারবার প্রসেস দেয়া সত্ত্বেও সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা বলেন, খবর শুনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে গিয়ে দেখি বালতিতে পানি রেখে তার মধ্যে পুলিশ সদস্যরা অবিস্ফোরিত বোমাটি রেখে দিয়েছে নিষ্ক্রিয় করার জন্য। পুলিশ এবং আমরা কেউই বোমা বিশেষজ্ঞ না হওয়ায় হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে আমি এবং এক পুলিশ সদস্যসহ মোট ৭ জন আহত হই।

পৌর কাউন্সিলর তরুণ কর্মকার বলেন, ঝালকাঠিতে সিরিজ বোমা হামলা, বিচারকদ্বয় এবং পিপি হত্যাকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতারা এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনায় আমরা এখনো আতঙ্কে রয়েছি।

ঝালকাঠির পিপি আবদুল মান্নান রসুল বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশের মতো ঝালকাঠিরও ৭টি স্থানে বোমা পুতে রাখে  জেএমবি। এ ঘটনায় করা মামলাটি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে। শিগগিরই মামলা দুটির নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, বিশেষ বিশেষ সময়ে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে থাকি। যথারীতি ১৭ আগস্ট উপলক্ষেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে চেক পোস্টও। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও জেলাবাসীর নিবারপত্তায় পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

আতিকুর রহমান/এসএস/এবিএস

আরও পড়ুন