ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ননদের নির্যাতনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পারুল

প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ২০ আগস্ট ২০১৬

শাশুড়ি ও ননদ-দেবরের নির্মম নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাউলারহাট এলাকার দুই সন্তানের জননী পারুল আক্তার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

গত ছয় মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর পারুলের ওপর শাশুড়ি ও ননদ-দেবরের অমানসিক নির্যাতন শুরু হয়। সেই সঙ্গে গত ১৫ আগস্ট পারুলকে ঘর থেকে বের করে দেয় স্বামীর পরিবারের লোকজন। এ সময় পারুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ার অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্যাতন।

শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত ভেবে সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পারুলকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন পারুল।

পারুলের বাড়ি একই উপজেলার সেনন্দুনা চছপাড়া গ্রামে। তার বাবা দিনমজুর লুৎফর রহমান। পারিবারিকভাবে ২০০৬ সালে একই উপজেলার ভাউলারহাট এলাকার কামরুল হাসানের সঙ্গে পারুলের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় পারুলের বাবা মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাইকে বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ নগদ টাকাও উপহার দেন।

নির্যাতিতা পারুল দুই সন্তানের জননী। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে স্বামী কামরুল হাসানের মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর শাশুড়ি নূরজাহান বেগম, দেবর লাবু, জাহাঙ্গীর ও ননদ আঞ্জুমানের নির্মম নির্যাতন শুরু হয় পারুলের ওপর। স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার জন্য চলে ষড়যন্ত্র ও অমানবিক নির্যাতন।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.  শুভেন্দুনাথ জানান, অল্পের জন্য পারুলের বাম চোখ রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে পারুলের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো সময় লাগবে।   

জানতে চাইলে পারুল আক্তার বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর আমাকে তারা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে সম্পত্তি দখল করতে চায়। আমি সন্তানদের দিকে তাকিয়ে সব কিছু সহ্য করছি। কিন্তু দিনের পর দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। আমি এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও স্বামীর বাড়িতে সন্তানদের নিয়েই থাকতে চাই।

ননদ আঞ্জুমান ইসলাম জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর সংসারের খরচ আমরাই বহন করি। একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। যেহেতু পারিবারিক বিষয় আমরাই সমাধান করে নেব।

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুচরিতা দেব জানান, গৃহবধূর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা সংগঠন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মো. রবিউল এহসান রিপন/এএম/আরআইপি