ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে গুলিতে নিহত দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে

প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৬

যশোরে গুলিবিদ্ধ নিহত দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা হলেন- যশোর শহরতলী খোলাডাঙ্গা এলাকার আব্বাস গাজীর ছেলে হাবিব গাজী (২২) ও খুলনার ফুলতলা গাড়াখোলা গ্রামের আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের ছেলে আজীম বিশ্বাস (২৮)।

শনিবার ভোররাতে যশোর শহরের এমএম কলেজ উত্তর গেটের কাছে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের সামনে এবং যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মালঞ্চি গেঞ্জি মিলের কাছ থেকে এ দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর তাদের অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দেখানো হলেও শনিবার দুপুরে ও বিকেলে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়।  

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরুণ কুমার জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই দুই যুবককে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে। পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।  

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজল কান্তি মল্লিক জানান, দুই যুবককে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত হাবিবের পরিবারের দাবি, পুলিশ তাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের হাতেই হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

এদিকে আজীম বিশ্বাসের স্ত্রী নাজমা বেগমের দাবি, গত রোববার পুলিশ পরিচয়ে তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কোতোয়ালি থানা পুলিশের দাবি, তারা ওই দুজনের কাউকেই আটক করেনি।

নিহত হাবিবের নামে থানায় নয়টি মামলা রয়েছে বলে জানান যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন। নিহত অপর যুবকের নাম আজীম বিশ্বাস, বাড়ি ফুলতলায় বলে জানান ওসি।

নিহত হাবিবের ভাই আসাদ গাজী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে খোলাডাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ তার ভাই হাবিব গাজীসহ পাঁচজনকে আটক করে। বাকি চারজন হলেন- একই এলাকার ইসলামের ছেলে মিঠুন, আব্দুর গণির ছেলে আব্দুর আজিজ, লুকমানের ছেলে হোসেন এবং সোহেল। পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার গুলিবিদ্ধ মরদেহ দুটি উদ্ধারের খবর শুনে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আসেন নিখোঁজদের স্বজনরা। মর্গে এ সময় গুলিবিদ্ধ দুটি মরদেহসহ তিনটি মরদেহ ছিল। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজনকে নিজের ভাই হাবিব বলে তিনি শনাক্ত করেন।

স্থানীয় নারী মেম্বার সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ হাবিবসহ পাঁচজনকে এলাকার হাসান দফাদারের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর থেকে হাবিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সকালে শুনি হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

মিলন রহমান/এএম/আরআইপি