জিপিএ-৫ অর্জনই শেষ কথা নয়
শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। সেই জাতীয়করণে স্থান পেয়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ। কলেজটির সফলতা, সম্ভাবনা ও জঙ্গিবিরোধী অবস্থানসহ নানা দিক নিয়ে আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সারওয়ার হায়াত খান কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের লালমনিরহাট প্রতিনিধি রবিউল হাসান।
জাগো নিউজ: সারাদেশে একযোগে ১৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছে বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মি. খান: অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ফলদায়ক হবে কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয়।
জাগো নিউজ: দেশের শিক্ষার গুণগতমান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট করণীয় কি?
মি. খান: শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ অর্জন শেষ কথা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। জ্ঞানার্জনের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নের পাশাপাশি আরো কিছু যোগ করতে হবে। অর্থাৎ বহুমুখী শিক্ষা নিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে হবে। তবেই শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করি।
জাগো নিউজ: শিক্ষার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা কী?
মি. খান: পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। যদিও সিলেবাসের বাইরে আমরা যেতে পারি না। তবুও প্রকৃত জ্ঞানার্জনে পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে।
জাগো নিউজ: আপনার প্রতিষ্ঠাটির পূর্বের সফলতা নিয়ে কিছু বলুন?
মি. খান: আমরা ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের বেসরকারি কলেজ হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করেছি। প্রতি বছর এইচএসসিতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করে আসছে।
জাগো নিউজ: বিগত বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফলে আপনার প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেমন?
মি. খান: বরাবরের মতো আমাদের আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ভালো ফলাফল করে আসছে। সর্বশেষ এইচএসসি ফলাফলে আমাদের কলেজ লালমনিহাট ও নীলফামারী জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এছাড়াও ২০১৩ সালে আমরা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১৮তম স্থান, ২০১৪ সালে ১৭তম, ২০১৫ সালে ১৯তম এবং এ বছর ২১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জাগো নিউজ: নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয় আপনার প্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা রাখতে পারবে? এ ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
মি. খান: কিছু নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের যে অভিযোগ উঠেছে তা ভেবে দেখার বিষয়। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা জঙ্গিবিরোধী দুটি মানববন্ধন করেছি। ভবিষ্যতে সচেতনা বাড়াতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
জাগো নিউজ: আপনার শিক্ষাজীবনের বিশেষ কোনো স্মৃতি থাকলে বলুন?
মি. খান: আমি যখন রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করি তখন এক রাতে আমার চোখের সামনে স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ বাহিনী সেখানকার বাকশাল ছাত্রলীগের নেতা মোস্তাক এলাহীকে গুলি করে হত্যা করে, যা আমাকে আজও পীড়া দেয়। এছাড়াও ১৯৮৪ সালে ছাত্রশিবিরের হামলায় আমাদের ছাত্রলীগের দুজন মারা যায় ও বহু নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনাটি মনে পড়লে খুব খারাপ লাগে।
জাগো নিউজ: কলেজের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার উপদেশ কী?
মি খান: শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রাইভেট ও কোচিংনির্ভরতা কমাতে হবে। তারা নিয়মিত ক্লাসে মনোযোগ দিলে পরীক্ষায় অনেক ভালো করবে। সেটাই তাদের করা উচিত বলে মনে করি।
জাগো নিউজ: প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ হওয়ার ফলে এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে করেন?
মি. খান: আসলে আমরা জানি না, কোন নীতিমালায় কলেজ সরকারিকরণ করা হচ্ছে। ২০০০ সালের নীতিমালায় সরকারি করা হলে আমাদের কলেজে ১৪ সিনিয়র সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এছাড়াও কলেজ সরকারি হলে ভালো শিক্ষকরা বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন। তাই কলেজের পরিবর্তে শুধু শিক্ষকদের সরকারি আওতায় আনলে খুব ভালো হবে বলে মনে করি।
জাগো নিউজ: শিক্ষকদের মানোন্নয়ন নিয়ে কী ভাবছেন?
মি. খান: জনগণের স্বার্থে কলেজটি জাতীয়করণ করায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অান্তরিক অভিনন্দন।
এআরএ/এবিএস