ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কথিত পীরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৪:৫১ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৬

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আলোচিত কথিত পীর বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই ভুক্তভোগী।

বন্দে আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে মোট ৫১ জনকে। যারা নিজেরাও বন্দে আলীর নেতৃত্বে আল বদর বাহিনীর হাতে নির্যাতিত বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে গত ১৪ আগস্ট। এর একটির বাদী হয়েছেন শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের মো. হারুন-নুর-রশিদ এবং অপরটির বাদী একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্দে আলী ছিলেন শিবালয় এলাকার আল বদর বাহিনীর কনভেনার আব্দুল রশিদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। শফিক আহমেদ সম্পাদিত ‘একাত্তরের দালালেরা’ প্রথম খণ্ডে ৫৭০ ক্রমিকে আব্দুল রশিদের নাম রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টি ও প্রকল্প পরিচালক মফিদুল হক কর্তৃক প্রকাশিত ছাত্রছাত্রীদের সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য সংগ্রহ তালিকা ১৬তম সংখ্যার ৫২ পৃষ্ঠাতে বন্দে আলী মিয়ার সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। এছাড়াও বন্দে আলী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে জনকণ্ঠ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত `সেই  রাজাকার` বইতে।

মো. হারুন নুর রশিদ তার অভিযোগপত্রে দিন তারিখ উল্লেখ করে বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তুলেছেন। ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর বন্দে আলী মিয়ার নেতৃত্বে একদল আল বদর বাহিনীর সদস্য হারুন নুর রশিদদের বাড়িতে নগদ ২০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং তামা কাশার গৃহস্থলি সামগ্রী লুটপাট করে।  

Manikgongএ সময় তাদের মারপিটে গুরুতর আহত হন হারুন নুর রশিদের বাবা তারা মিয়া ও ভাই শাহাজাহান মিয়া। বন্দে আলী হুকুম দেয় তারা মিয়া ও শাহাজাহানের মাথা কেটে নিতে। তবে দুজনকেই মৃত ভেবে মাথা কাটা হয়নি।

এর কিছুদিন পর ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর আবার বন্দে আলীর মিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা হারুন নুর রশিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয় লাল মিয়া নামের আরেকজনের বাড়ি।

মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি অবস্থায় হারুন নুর রশিদের বোন আলেয়া বেগমকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় বন্দে আলী মিয়া। এরপর তাকে তুলে দেয়া হয় আল বদর বাহিনীর কনভেনার রশিদ শেখের পানশী নৌকায়। আলেয়া বেগমকে বাধ্য করে রশিদ শেখের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে। তবে মুক্তিযুদ্ধ শেষে হারুন নুর রশিদ তার বোনকে রশিদ শেখের কাছ থেকে উদ্ধার করেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

হারুন নুর রশিদ তার অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করেছেন, তাদের গ্রামের বেশ কয়েকজন হিন্দু পরিবারের ওপর বন্দে আলী বাহিনীর নির্যাতন অত্যাচার আর হত্যার ঘটনা। এর মধ্যে অজয় চক্রবর্তী, গোপাল সরকার, সুবল সরকার, হিরু সাহা, কটু সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

 এদেরসহ বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর লুটপাট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। বন্দে আলীর অত্যাচারে কমপক্ষে ২০টি হিন্দু পরিবার দেশ ত্যগ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 
অপর অভিযোগপত্রে মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বন্দে আলীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পাকবাহিনী ও রাজাকার মিরপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল।

সে সময় ক্যাম্পে অল্প সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছিল। প্রতিরোধ করলেও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মনছুর আলম খান আহত হলে তারা পিছু হঠে আসে। এরপর বন্দে আলীর নেতৃত্বে তাদের বাড়িসহ পুরো গ্রামটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। চালানো হয় লুটপাট। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধ কুকারাম মন্ডলকে। এরপর রাজাকাররা লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয় পার্শ্ববর্তী পয়লা ভাঙ্গাবাড়ী, মালুচী গ্রামেও।

মো. মহিউদ্দিনের অভিযোগে সাক্ষী করা হয়েছে ১০ জনকে। এদের সবারই বয়স ষাটোর্ধ্ব। সবাই প্রত্যক্ষদর্শী।

অভিযোগে সাক্ষী করা হয়েছে ঘিওর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধাকালীন ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন জকিকে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বন্দে আলীর মিয়া ছিলেন রশিদ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অত্যাচারের কথা সবাই জানে। এতো দিন কিভাবে সে বিনা বিচারে ছিল তাই আশ্চর্যের বিষয়।

বন্দে আলী মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, রাজাকার রশিদ বাহিনীর মূল সহযোগী ছিলেন হারুন নুর রশিদের বাবা আমান উল্লা তারা মিয়া।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে তার বিরুদ্ধে হারুন নুর রশিদ এই মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

বি.এম খোরশেদ/এসএস/এমএস

আরও পড়ুন