ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবকে শোকজ

প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৬

প্রিন্টার ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্থগিতাদেশ অবমাননার অভিযোগে যশোর শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মজিদ ও সচিব মোল্লা আমির হোসেনকে শোকজ করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজাহারুল হক আকন্দের যৌথ বেঞ্চ ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযুক্তদের বিচারিক আদালতে শোকজের জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

উচ্চ আদালতের ওই আদেশ গত সোমবার যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসরাইল হোসেন ৪০৬২৭নং স্মারকের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোর বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আহসান হাবীব জানান, শোকজ নোটিশ পাওয়া গেছে। বোর্ডের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করে আদালতে শোকজের জবাব দেয়া হবে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ৬টি হাইস্পিড লেজার প্রিন্টার ক্রয়ের জন্য যশোর শিক্ষাবোর্ডের পক্ষে সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন দরপত্র আহ্বান করেন।

যশোর শহরের আরএন রোডের মাল্টি কম্পিউটার ল্যান্ডের মালিক এসএম আতাউর রহমান দরপত্রে অংশ নেন। কিন্তু তিনি ছাড়া বাকির দরপত্রের শর্তপূরণ না করায় তা বাতিল করা হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল দুটি জাতীয় পত্রিকায় ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই দরপত্রেও আতাউর রহমান বাদে বাকিরা শর্তপূরণ না করায় দরপত্র বাতিল করা হয়।

তৃতীয়বারের মতো ২৯ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এবারো দরপত্রে অংশ নেয়া অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শর্তপূরণ না করায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসএম আতাউর রহমানকে ২০১৫ সালের ২ জুলাই প্রিন্টার সরবরাহের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশে ২ আগস্টের মধ্যে মালামাল সরবরাহের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

বিদেশ থেকে প্রিন্টার আমদানি করে আনতে বিলম্ব হওয়ায় ২ আগস্ট আতাউর রহমান সর্বোচ্চ ৬১ দিন সময় বৃদ্ধির জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কাছে আবেদন করেন। এরপর ৫ আগস্ট আবেদনের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সচিব মোল্লা আমির হোসেন দরখাস্ত অনুমোদনের জন্য ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে কার্যাদেশ বাতিলের হুমকি দেন।

পরে এসএম আতাউর রহমান কার্যাদেশে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী বিলম্ব ফি কর্তনের মাধ্যমে মালামাল গ্রহণের আবেদন করেন। কিন্তু সচিব ৫ লাখ টাকা ছাড়া সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর এসএম আতাউর প্রিন্টার গ্রহণের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর ও ২১ সেপ্টেম্বর আবারো আবেদন করেন। কিন্তু সচিব তার দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা না পেলে মালামাল গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমতাবস্থায় আতাউর রহমান ৪ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে মীমাংসার আবেদন করেন।

২২ নভেম্বর দেওয়ানি আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সালিশ হলেও সচিব মালামাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। সভা থেকে বের হয়েই ফের ঘুষের টাকা দাবি করেন তিনি। প্রায় ৪২ লাখ টাকার ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে এসএম আতাউর রহমান শিক্ষাবোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে যশোর জজ আদালতে মামলা করেন।

জেলা জজ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু সচিব অন্যত্র থেকে প্রিন্টার ক্রয়ের চেষ্টা চালাতে শুরু করেন। যে কারণে ক্রয় কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন আতাউর রহমান।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি নায়মা হায়দার ও বিচারপতি মুস্তাফা জামান ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চ প্রিন্টার ক্রয়ের কার্যক্রমের ওপর ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ  দেন। এ বিষয়ে ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন আতাউর রহমান। এরপর বোর্ড কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে তাকে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রিন্টার ক্রয় স্থগিত রাখা হয়েছে।

কিন্তু সে আদেশ অমান্য করে সচিব মোল্লা আমির হোসেন খুলনার নিউটেক কম্পিউটারের মাধ্যমে গত ৩১ মে একটি প্রিন্টার ক্রয় করেন। ৮ মে একক সিদ্ধান্তে দরপত্র আহ্বান করে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিউটেক কম্পিউটারকে কার্যাদেশ দেন সচিব।

এর প্রেক্ষিতে আবারো উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন এসএম আতাউর রহমান। তার আবেদনের শুনানি শেষে গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজাহারুল হক আকন্দের যৌথ বেঞ্চ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অবমাননার অভিযোগে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবকে শোকজ করেন। আর ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যশোর শিক্ষাবোর্ডের সচিব মোল্লা আমির হোসেন হজে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি