ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি

প্রকাশিত: ০৬:৪৩ এএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বর্ষা শেষে শরতের মিষ্টি মাখা ও শিশির ভেজা প্রকৃতি। ঘন সবুজে আবৃত রাঙামাটির সতেজ প্রকৃতির হাতছানি। পানিতে টইটুম্বুর রাঙামাটির মনোরম কাপ্তাই লেক। উজ্জীবিত নজর কাড়া সুবলং ঝরনাটি। ঝরনার কলকল তান মুখরিত করেছে আশপাশের প্রতিবেশ।

সবুজঘেরা পাহাড়গুলো ছুঁয়েছে মেঘ। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অসংখ্য পাহাড়ি ঝরনার কলতান। মাঝ দিয়ে বইয়ে গেছে আঁকাবাঁকা কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলধারা। দিগন্তজোড়া বিস্তৃত সবুজের সমারোহ। যেন শৈল্পিক আঁকা দৃশ্য। এমনই নৈসর্গিক লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটি। যার হাতছানি প্রতিনিয়তই কাছে টানে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের। আর এবার ঈদেও পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি।

স্থানীয় পর্যটন ও আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে ইতোমধ্যে শহরের প্রায় হোটেল মোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

সরকারি পর্যটন কর্পোরেশনের রাঙামাটি পর্যটন মোটেল অ্যান্ড হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে প্রচুর পর্যটকের সাড়া পাওয়া গেছে। ১১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটন কমপ্লেক্সের মোটেল ও কটেজগুলো সম্পূর্ণ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি ঘিরে শহরের প্রায় আবাসিক হোটেলে অগ্রিম বুকিং চলছে। ইতোমধ্যে প্রচুর কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে আবাসিক হোটেলগুলোতে।

তিনি আরো বলেন, পর্যটনের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলেও শুধু ঈদের ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনে নয় সব সময় পর্যটকরা রাঙামাটি আসতো। সরকারি পর্যটনের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে আরও ব্যাপকহারে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হলে এখানকার পর্যটনের বিকাশসহ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন হতে পারত। এজন্য উদ্যোক্তাদের মাঝে সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা দরকার।

রাঙামাটি সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, বর্তমানে রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সে দুটি মোটেল, ছয়টি কটেজ ও একটি ঝুলন্ত সেতু আছে। এছাড়া নৌ ভ্রমণের জন্য রয়েছে বোটিং ব্যবস্থা। বিনোদনের জন্য আরও পর্যাপ্ত সুবিধা সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

তবে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এছাড়া সড়ক পথে পর্যটকরা কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে তাৎক্ষণিক যানবাহনের ব্যবস্থাও রয়েছে। মোটেলে রয়েছে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা। আছে একটি বার।

তিনি বলেন, কেবল একটি ঝুলন্ত সেতু দেখতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের আকর্ষণ আরো বাড়ানো যাবে। এতে আগমন ঘটবে দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটকের। তবে এ পর্যটন স্পটে সরকারি নিরাপত্তার সমস্যা নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িসহ সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল জোরদার থাকে।

তিনি আরো জানান, রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সে বিনোদন সুবিধা বাড়াতে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি মাস্টার প্ল্যান পাঠানো হয়েছে। এতে টয়ট্রেন, রোপওয়ে, ওয়াটার পার্ক, ট্রাভেল পার্ক, ফ্লুডিং রেস্টুরেন্ট, আধুনিক কিডস জোন নির্মাণ এবং ঝুলন্ত সেতুটি আরও আধুনিকায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক আয়সহ জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ২৮ দশমিক ৩২ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ পর্যটন কর্পোরেশনের এলাকায় অনেক কিছু স্থাপনা গড়ে তোলা যেতে পারে।

এছাড়া রাঙামাটিতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা চলছে তা বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে।

তিনি বলেন, রাঙামাটিতে আজো পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। উন্নতমানের বিনোদন স্পট থাকলে দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটককে রাঙামাটি আগমনে উৎসাহ বাড়ানো যাবে। এখানে উন্নত রেস্তোরাঁ, কেবল কার, রোপওয়ে, লেকে নৌ-ভ্রমণের পাশাপাশি মাছ শিকার স্পট, আধুনিক পার্ক, চিড়িয়াখানাসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক বিনোদন স্থাপনা গড়ে তোলা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আকর্ষণ সৃষ্টি করা যাবে।

এসএস/এবিএস