ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কক্সবাজারের পশুর হাট

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আর মাত্র তিনদিন বাকি। মঙ্গলবারের সূর্যোদয় দেশের সর্বত্র এনে দিবে ত্যাগের ঈদ আনন্দ। তাই শেষ মুহূর্তে জমতে শুরু করেছে কক্সবাজারের ৪৪ কোরবানির পশু হাটের বিকিকিনি।

টেকনাফ স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের দেয়া তথ্য মতে, শুরুতে মিয়ানমারের পশু আমদানি কম হলেও এখন চাহিদা মতো গবাদি পশু আমদানি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১ হাজার ২৭৯টি পশু আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৫টি গরু, ২২৮টি মহিষ এবং ২৬টি ছাগল। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩০০টাকা।

আর আগস্ট মাসে শাহ পরীরদ্বীপ করিডোর হয়ে গাবাদি পশু আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৫৪৭টি। যার মধ্যে গরু ছিল ১ হাজার ১৬০টি, মহিষ ১ হাজার ৩৭৬টি এবং ছাগল ১১টি। আর পশু আমদানির ক্ষেত্রে সরকার রাজস্ব পেয়েছেন ১২ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ টাকা।

Cox-goru

তিনি জানান, কোরবানির পশুর সংকট কাটাতে ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারের পশু আনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা উৎসাহিতও হচ্ছেন।

ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার নিজের তত্ত্বাবধানে তিন শতাধিক গরু, মহিষ, ছাগল আনা হয়েছে।

টেকনাফ শাহপ রীরদ্বীপ করিডোরের ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পশুর আমাদানি বেড়েছে। একদিন ঘাটে গরু ও মহিষ এসে পৌঁছেছে সাড়ে ৬ শোর বেশি। এর আগে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত আরো সাড়ে ৪ শতাধিক গরু-মহিষ এসেছে।

তিনি আরো জানান, কোরবানির বাকি দিনগুলোতে চাহিদা দেখে আরো ব্যাপক গরু মহিষ আসবে।

শাহ পরীরদ্বীপ জেটি ও হাটবাজারের ইজারাদার মৌলভী নুরুল হক জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় মিয়ানমার থেকে ট্রলারযোগে গবাদি পশু আসা অব্যাহত রয়েছে।

Cox-goru

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, কক্সবাজারে এবারে কোরবানির পশুর হাট ৪৪টি। যার মধ্যে স্থায়ী ২১টি, অস্থায়ী ২৩টি। এর মধ্যে কক্সবাজার সদরে ৫টি, চকরিয়ায় ১০টি, পেকুয়ায় ২টি, কুতুবদিয়ায় ২টি, মহেশখালীতে ৬টি, উখিয়ায় ৬টি, টেকনাফে ৭টি পশুর হাট রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার খুরুশকুল সড়কের হাটের ইজারাদার নুরুল আজিম কনক জানান, ডিজিটালাইজভাবে ব্যাংক বুথ ও কঠোর নিরাপত্তায় সাজানো হয়েছে পৌরসভার এ কোরবানির হাট। বৃহস্পতিবার থেকে এ হাটে গবাদি পশু আনা শুরু হয়েছে। নানা সাইজের পশু নিয়ে সাজানো বাজারে সেবা দেয়া হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা।

সদরের ঈদগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বলেন, প্রায় প্রতিটি হাটে দেশি ও আমদানি করা পশু পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে এতোদিন আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। ব্যবসায়ীরা মণ প্রতি গড়ে ২০-২৫ হাজার পড়ে এমনভাবে দাম চাচ্ছেন। আর ক্রেতারা চাচ্ছেন ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় কিনতে। হাতে আরো দু’তিন দিন সময় থাকায় ‘ঝোপ বুঝে খোপ’ মারতে চেষ্টা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

Cox-goru

কক্সবাজার প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে জেলায় খামইরদের বিক্রি উপযোগী সাড়ে ৩৫ হাজারের বেশি গবাদি পশু মজুদ রয়েছে। আসছে আমদানিকৃত পশুও। তাই জেলায় পশুর সংকট নেই বললে চলে।

অপরদিকে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারের ৪৪টি পশুর হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী।

টেকনাফস্থ ২ বিজিবির অধিনায়ক আবু জার আল জাহিদ জানান, শাহ পরীরদ্বীপ করিডোরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নেয়া হয়েছে পশু সরবরাহে সব ধরনের হয়রানি-চাঁদাবাজি রোধ করতে কঠোর নজরদারি। পাশাপাশি কোরবানির পশুর আড়ালে ইয়াবা চালান রোধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লে­খ করেন বিজিবির এ কর্মকতা।

এসএস/এমএস

আরও পড়ুন