ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

দুই মাসেও চালু হয়নি পেট্রাপোল চেকপোস্ট

প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রায় দু’মাসেও বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল সুসংহত চেকপোস্ট লিংক রোড দিয়ে পণ্য আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে আগে থেকেই কিছু পণ্য রফতানি হয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত থাকলেও পেট্রাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত না থাকায় এ সড়ক দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। গত ২০ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে সুসংহত চেকপোস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
 
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, বেনাপোল বন্দরে অবস্থিত লিংক রোড, বাস টার্মিনালসহ আরো কয়েকটি স্থাপনাও উদ্বোধন করেন। ওপারের সুসংহত চেকপোস্টটির প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে দুই শতাধিক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সদস্য।

এক হাজার পণ্যবাহী ট্রাকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে আরো গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন কাস্টম ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। ট্রাক টার্মিনাল, এয়ারকন্ডিশন ওয়ার হাউজ, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট জোনও স্ক্যানিং মেশিনসহ বিশ্বের আধুনিক বন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা থাকছে এখানে।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে তিন থেকে সাড়ে ৩০০ পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। আবার দুই থেকে আড়াইশ’ পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে যায়। রফতানি পণ্য বাইপাস সড়ক দিয়ে ভারতের টার্মিনালে গেলেও আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারতীয় খালি ট্রাক যাতায়াত করে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ড দিয়ে।

Benapole

একই পথে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন। এতে করে বন্দরে পণ্যজট লেগেই থাকে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার বেনাপোল বন্দরে বাইপাস (লিংক রোড) সড়ক নির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর পর সড়কটি দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রফতানিবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জনবল সংকটের কারণে ও রফতানিকারকদের একটি মহলের বাধার কারণে পেট্রাপোল সুসংহত চেকপোস্টে দিয়ে ভারত থেকে আমদানিবাহী ট্রাক ঢুকছে না।

যে কারণে চেকপোস্ট থেকে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন থাকছে দীর্ঘ যানজট। বিভিন্ন যানবাহন, পাসপোর্টযাত্রীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে। অনেককে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় চেকপোস্টে। ওপারের ট্রাক টার্মিনালে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে বাংলাদেশগামী আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা আদায় করে থাকে। মূলত তাদের বাধার কারণে লিংক রোড দিয়ে আমদানি এখনো চালু করা যাচ্ছে না। তারা নানা অজুহাতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পণ্যজট কমাতে ও আমদানি-রফতানি পণ্য উঠানামা সহজ করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে বেনাপোল বন্দরের ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করার জন্য উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সড়ক জনপথ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এক কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেশ আগেই তাদের অংশের আড়াই কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করে। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২৯ কোটি টাকার প্রকল্পের বাইপাস সড়কের কাজ শেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) নিতাই চন্দ্র সেন জানান, এখানে ৩৮টি শেডসহ ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। যাতে আমদানি করা ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রাখা যাবে। ভারতের নতুন লিংক রোড দিয়ে আমদানি পণ্য আসলে তা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু ভারতের কাস্টম এখনো প্রস্তুত না থাকায় আমদানি পণ্য আসছে না। তবে রফতানি পণ্য কিছু যাচ্ছে সড়ক দিয়ে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বাইপাস সড়ক দিয়ে সব ধরণের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করলে বন্দরে যানজট থাকবে না বলেও জানান তিনি।

Benapole

ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সূত্রে জানা যায়, ভারতের সুসংহত চেকপোস্টে কাস্টমস অফিসগুলো এখনও নতুন ভবনে সরিয়ে নিতে পারেনি তারা। তাই আমদানি-রফতানি শুরু হয়নি। অফিস সরিয়ে নিলেই শুরু হবে আমদানি-রফতানি।

ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানি সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা কাস্টম  ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে ওপারে গিয়েছিলাম। তারা বলেছেন, প্রতিদিন আমাদের দেশে এক হাজার পণ্যবাহী গাড়ি লিংক রোড দিয়ে পাঠাবেন। কিন্তু বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ তাদের সক্ষমতা না থাকায় নিতে রাজি হননি। লিংক রোডটি চালু হলে আমাদের অনেক হয়রানি কমে যাবে। তাছাড়া দ্রুততম সময়ে আমদানিকৃত গাড়ি বেনাপোল বন্দরে আসতে পারবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, কাস্টমস ও বন্দরের সভায় আমরা উভয় দেশের বাইপাস রোডটি চালু করতে তাগিদ দিয়ে আসছি। বেনাপোলের কাস্টম কর্তৃপক্ষ ভারতের কাস্টমকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানানো হয়েছে। উভয় দেশের বাইপাস সড়ক দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করলে যানজট ও পণ্যজট থাকবে না। এতে করে আমদানিকারকরা উপকৃত হবেন। পণ্যজট না থাকলে এখান দিয়ে আমদানি-রফতানি আরো বাড়বে।

মো. জামাল হোসেন/এএম/আরআইপি