হিমছড়িতে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
কক্সবাজারের পর্যটন স্পট হিমছড়িতে বন বিভাগের জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে। এতে করে ওই এলাকায় ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়ছেন। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে।
বিনা নোটিশে শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী কবিরের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে হিমছড়ি বাজার ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশ করেছে।
হিমছড়ি বাজার প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হিমছড়ি বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিন মেম্বার ও যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ মেম্বার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সহ- সভাপতি নুরুল আলম নুরু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রোববার বিকালে হিমছড়ি বাজারে উচ্ছেদের নামে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফওর নেতৃত্বে শতাধিক দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ১০ কোটি টাকার ক্ষতি ও এসময় প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়। বনকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছে ১০ জন ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করায় হিমছড়ি পর্যটন স্পটে আগত পর্যটকরা খাবার-পানি সংকটে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে হিমছড়ি ঝর্ণা স্পটে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি বাজার গড়ে উঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গল খুনিয়াপালং মৌজা ৪ একর ৮০ শতক জমিকে বাজারের জন্য ফেরিফেরি ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। একটি মিস মামলা (নং-৭৩/১০) মূলে ২০১০ সালে জেলা প্রশাসকের আদেশের প্রেক্ষিতে উল্লেখিত জমিকে বাজারের জন্য ফেরিফেরি ঘোষণা করে সেখানে উপজেলা প্রশাসন ১৩২টি দোকান ঘর ইজারা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা ডিসিআর কেটে উক্ত দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
কিন্তু এ জমি বনবিভাগের দাবি করে দোকান ঘর তুলে ফেলতে বলায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বনবিভাগের বিরোধ দীর্ঘদিনের। যার জের ধরে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডিএফও আলী কবিরের নেতৃত্বে তা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশের পর চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল ব্যবসায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসনের সঙ্গে দেখা করেন এবং পর্যটন স্পটে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দুর্ভোগের কথা জানান। এসময় জেলা প্রশাসক স্বার্থের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অপরদিকে, উচ্ছেদের পর বনবিভাগের ইজারা দেয়া পর্যটন স্পটে পরিদর্শন টিকেট কাউন্টার, ট্রাকসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় ডায়রি করেছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ আলী কবির।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দায়িত্ব। আমরা প্রজাতন্ত্রে কর্মচারীরা সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ছি। এমনটি হলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে অনিহা প্রকাশ করবে।
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এবিএস