বাফার গোডাউন থেকে দেড় কোটি টাকার সার গায়েব
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাফার সার গোডাউন থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১০ হাজার ৯৪০ বস্তা ইউরিয়া সার গায়ের হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সার কিভাবে গায়েব হলো তার কোনো হিসাব নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।
এরআগে, ২০১১ সালের অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের ৪ হাজার ২৮০ বস্তা ইউরিয়া সারে একই রকম ঘাটতি পাওয়া যায়। সেসময় গোডাউন ইনচার্জ আবুল কালাম আাজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে লোড-আনলোড ঠিকাদারদের সঙ্গে আতাত করে সার বিক্রি করে দিয়েছেন।
এমন অভিযোগের পর ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে এবং বিসিআইসির সিনিয়র জিএম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত টিম কাজ শুরু করে। তদন্ত চলাকালিন তার কর্মস্থল কালীগঞ্জে অবস্থানের নির্দেশনা থাকলেও গোডাউন ইনচার্জ ২০১১ সালে ১০ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে স্বপরিবারে পালিয়ে যান।
গোডাউন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই বাফার গোডাউন থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের ২১৪ জন তালিকাভুক্ত ডিলারের মাধ্যমে সার সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে বস্তায় ২ থেকে ৪ কেজি কম থাকার অভিযোগে গোডাউনে আসা ১৬টি ট্রাকে ৩শ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার আটকে রাখা হয়। তার আগে কয়েকশ মেট্রিক টন কম ওজনের সার ডিলারদের হাত ঘুরে কৃষকদের হাতে পৌঁছে যায়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের নবাব অ্যান্ড কোম্পানি এই সার সরবরাহ করে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ডিলারদের অভিযোগ নিয়মানুশারে সার বাইরে থেকে আসার পর গোডাউনে নামিয়ে তারপর তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে দির্ঘদিন ধরে এই বাফার গোডাউনের ইনচার্জের সহযোগিতায় একটি চক্র মোটা টাকার বিনিময়ে সার গোডাউনে না নামিয়ে সরাসরি বিভিন্ন ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকে।
আর এই সার আনা নেওয়ার কাজে শক্তিশালী এই চক্রের নিজস্ব ৭০টি ট্রাক নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কমপক্ষে ১০ বছর আগে গোডাউনে থাকা প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন জমাট বাধা নীম্ন মানের সার এখনো পড়ে রয়েছে। যা কৃষি কাজে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাফার সার গোডাউনের ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে করা এক হিসাব অনুযায়ী ৫৪৭ মেট্রিন টন অর্থাৎ ১০ হাজার ৯৪০ বস্তা ইউরিয়া সার গোডাউনের স্টকে কম পেয়েছেন। তবে কবে কখন কারা এই সার চুরির সঙ্গে জড়িত তা বলতে পারেননি।
৩ মাস আগে তিনি এখানে এসেছেন। এই সার আগে থেকেই স্টক রেজিস্টারে কম ছিল বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ফারটিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইদহ শাখার সভাপতি ও সার ডিরার আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর জানান, আমরা শুনেছি বাফার গোডাউনে ৪/৫শ মেট্রিক টন সার কম রয়েছে। এখন সেগুলো কিভাবে রিকোভারি করবে সেটা বাফার কর্তৃপক্ষের ব্যাপার।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, জমাট বাঁধা ও নিম্নমানের সার ডিলারদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ বাফার গোডাউনের ইউরিয়া সার নিয়ে বেপরোয়া অর্থ বাণিজ্য বিষয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গোডাউনের ইনচার্জ, হিসাব রক্ষক ও লোড আনলোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই অর্থ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর