ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বালু উত্তোলনের মহোৎসব : হুমকির মুখে জনপদ

প্রকাশিত: ০২:৪০ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলার চরাঞ্চলসহ নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু তুলে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় উপজেলা সদর, হাজার হাজার একর কৃষি জমিসহ হুমকির মুখে পড়েছে জনপদ। নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন এবং নদ তীরবর্তী বসবাসকারীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি ট্রাকে গড়ে ২০০ ঘনফুট বালু ধরে। এক ট্রাক বালু বিক্রি হয় এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। আর ট্রাক্টরে বালু ধরে ১০০ ঘনফুট। প্রতি ট্রাক্টর বিক্রি হয় এক হাজার টাকা। এতে করে প্রতিদিন গড়ে লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

জানা গেছে, উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন শুরু হয় ষাটের দশকে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিদিন গৃহহীন হচ্ছে নদীর তীরবর্তী পরিবারগুলো। পানি না থাকায় নদে অসংখ্য চর জাগতে শুরু করেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা চিলমারী উপজেলা। এই চিলমারীতে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরে চলতো পণ্যবাহী কার্গো, জাহাজ, বড় পালতোলা নৌকা। আর এখন তা হয়েছে ফসলের মাঠ। নদ তীরবর্তী জেলায় সীমান্ত সাহেবের আলগা থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা চরকেন্দ্রিক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরে পুটিমারীসহ ব্যাংমারা, রমনা ঘাট, বড়চর, বান্ডালের চরসহ নদী তীরের অর্ধশত পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু তোলার মহোৎসব চলছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার ও শ্রমিক দিয়ে বালু কেটে ট্রাক, ট্রাক্টর, ভটভটি, নৌকা, মহিষের গাড়ি ও ভ্যানে করে জেলার বিভিন্ন এলাকার পাঠানো হচ্ছে।
 
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর থেকে এসব ব্যবসায়ী ব্রহ্মপুত্র, তীস্তা ও ধরলার নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এসব জমি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য সরকার কাউকে ইজারাও দেয়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের মদদদাতা ও সুবিধাভোগী হিসেবে এলাকার চিহ্নিত কিছু সরকার দলীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা জড়িত বলে তারা জানান।

নদ তীরবর্তী ঢুষমারা গ্রামের মনির, ফজল মিয়া বলেন, চর জেগে ওঠা পৈতৃক জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করি। কিন্তু ভূমিদস্যুরা জোর করে ফসলি জমি থেকে শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি ও বালু কেটে নিয়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে আমরা সংশয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অতি সত্তর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাজমুল হোসেন/এসএস/এমএস