ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বকের গ্রাম কদমতলা

প্রকাশিত: ০৭:১০ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

মোটরসাইকেলে গাইবান্ধা শহর থেকে সদরের লক্ষ্মীপুর নলডাঙ্গা হয়ে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন পেরিয়ে এক ঘণ্টা সময় লাগে কদমতলা গ্রামে পৌঁছতে। এলাকাটি এখন পরিচিত বকের গ্রাম হিসেবে।
 
দল বেঁধে খাবারের সন্ধান করা, উড়ে বেড়ানো কিংবা সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে নীড়ে ফেরার অপরূপ দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ঝাঁকবাধা বকের এই মিছিল প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌর্ন্দয। এলাকায় ঢুকতেই তাদের স্বাচ্ছন্দ্য চলাফেরা অবাক করে দেয় সবাইকে।
 
কদমতলা গ্রামে বকের আধিক্য থাকলেও অন্য প্রজাতির পাখির সংখ্যাও কম নয়। এ যেন পাখিদের অভয়ারণ্য। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে এখানকার মানুষের। স্থানীয় ভাষায় সাদা বক, জ্যাটা বক, আম বক, কানি বক, বিলুপ্ত প্রায় কালো পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ অন্য পাখিদের দখলে এ এলাকা। স্থানীয় লোকজনের মমত্ববোধের কারণেই গত এক বছরে কদমতলা পাখ-পাখালির এমন আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
 
কদমতলা গ্রামের শিক্ষক শশীমোহন বর্মণ ও তার ভাই ক্ষিতিশ চন্দ্র বর্মণসহ চার শরিকের বিশাল বাড়িকে কেন্দ্র করেই মূলত ওই গ্রামে বকের অভয়ারণ্য গড়ে ওঠে।

GAIBANDHA

শশীমোহন জানান, বকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে। তাদের ডাকেই সকালে ঘুম ভাঙে আমাদের।

ক্ষিতিশ বললেন, বাইরে থেকে চুরি করে অনেকে বক শিকারে আসে। কিন্তু আমরা সকলে সজাগ থেকে তাদের প্রতিরোধ করেছি। পাখিরা আমাদের প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়ের মতো। প্রকৃতি আর পাখির নিবিড় বন্ধন দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন এই গ্রামে।

গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে কবি মানিক বাহার বললেন, কদমতলা গ্রামে সারাদিন থেকে দেখেছি কীভাবে ভোর হতেই বক আর অন্য পাখিগুলো উড়ে উড়ে আহারের জন্য আশপাশের বিল আর খোলা মাঠে চলে যায়। দিনভর সেখানেই তাদের ডাকাডাকি আর হুটোপুটি।

সন্ধ্যা নামার একটু আগে পাখিগুলো আবার দল বেঁধে ফিরতে শুরু করে। এসময় চারপাশে শুধু পাখিদের কিচির মিচির শব্দ। এরা বাঁশের বা বিভিন্ন গাছের মগডালে বসে ডানা ঝাপটায় আবার গাছের মাথার উপর দিয়ে দু-এক চক্কর দিয়ে ফিরে আসে। সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে তখন বিভিন্ন গাছের সবুজ পাতাগুলো সাদা বকের রংয়ে সাদা ফুলের মতো দেখায়। সেখানে এক দারুণ দৃশ্য তৈরি হয়।
 
দুপুর থেকে টানা অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় দেখা গেল সেই দৃশ্য। বিভিন্ন গাছে চার-পাঁচটি করে বকের দল প্রথমে ডালে বসে পরে পাতার গভীরে ডুব দিচ্ছে। শশীমোহন বর্মণের স্ত্রী পুষ্প রাণী ছোট মাছ হাতে ডাকতেই বাঁশঝাড় থেকে উড়ে এল একটি বক। তার হাত থেকে মাছ খেয়ে আবার উড়াল দিল।

GAIBANDHA
 
হাঁকডাক থেমে যাওয়ার পর কয়েশ পাখির শব্দে এক অপার্থিব পরিস্থিতি! ক্যামেরা বাগিয়ে দু-তিনটি ছবি নেয়ার পর নেমে এল আঁধার। টর্চ দিয়ে আবছা আলোয় দেখা গেল গাছে গাছে যেন সাদা ফুল ফুটে আছে।   
 
ক্ষীতিশ চন্দ্র বর্মণ জানালেন, স্থানীয় লোকজনের ভালোবাসায় সেখানে বাসা বেধেছে ঝাঁকে ঝাঁকে বক। আর চোরা শিকারিদের হাত থেকে এলাকাটি নিরাপদ হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকেও বকসহ পাখিরা ঠাঁই নিয়েছে এখানে। চলছে প্রজনন আর বংশবিস্তার।

এলাকাবাসী জানান, কদমতলা গ্রামের খামারি শচিন্দ্রনাথ বর্মণ প্রথমে তার বাড়িতে বাঁশের ঝাড় ও গাছপালায় বকসহ বিভিন্ন পাখিদের নির্বিঘ্নে বসবাসের সুযোগ করে দেন। পরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বংশবিস্তার করে এরা বাসা বাঁধে। নানা জাতের বকের কারণে এলাকাটিকে অনেকে বকের গ্রাম বলেও চেনে। কমপক্ষে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার বক ও বিভিন্ন পাখি রয়েছে এখানে।

এফএ/এমএস