ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘোড়ায় চড়ে আসছেন দেবী দুর্গা

প্রকাশিত: ০৫:৩১ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত কাশফুল আর আকাশে সাদা মেঘের ভেলা জানান দেয় সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। দশভূজা প্রতিমা দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় ধরণীও আজ পুলকিত। শাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে আবার প্রস্থানও করবেন ঘোড়ায় চড়েই।

হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যদিও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে এখনো এক সপ্তাহ বাকি।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলাজুড়ে ৫১৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৭৬টি মণ্ডপ, নবীনগর উপজেলায় ৯৭টি, কসবা ৪৪টি, বাঞ্ছারামপুরে ৩৭টি, আখাউড়ালায় ২০টি, নাসিরনগরে  ১৩৪টি, আশুগঞ্জে ১২টি, বিজয়নগরে ৫৫টি ও সরাইলে ৪০টি মণ্ডপ রয়েছে।

Durga

এদিকে, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিন-রাত প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই প্রতিমাতে দেবেন রং-তুলির শেষ আচড়। এরপর প্রতিমাতে পোশাক আর অলংকার পরিয়ে করা হবে দৃষ্টিনন্দন।

তবে পূজার প্রস্তুতির এই শেষ বেলায় ঘরে বসে নেই কারু শিল্পীরাও। প্রতিটি পূজা মণ্ডপকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রূপ দিতে কারু শিল্পীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কয়েকজন মৃৎ ও কারু শিল্পীর সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। রাত-দিন জেগে, খেয়ে না খেয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তারা। দিন দুয়েকের মধ্যেই প্রতিমাতে রং-তুলির আঁচড় দেয়া হবে।

দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় আনন্দে উদ্বেলিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা জানান, দেবী দূুর্গার রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা জানাবেন তারা।

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রণব কুমার দাস উত্তম জাগো নিউজকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সকলের সহযোগীিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই পূজা সম্পন্ন করতে পারবো।

Durga

দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পূজা শুরু হওয়ার তিনদিন আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এ ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পূজা মণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ অক্টোবর ষষ্ঠি পূজার মাধ্যমে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরপর ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ সার্বজনীন উৎসব।

এসএস/আরআইপি