না.গঞ্জে ৭ খুন : চতুর্থ দিনের মত জেরা সম্পন্ন
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় চতুর্থ দিনের জেরা সম্পন্ন করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। নূর হোসেনকে কীভাবে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। মামলার তদন্তকারীকে এমনও বলা হয়, ঘটনার সঠিক তদন্ত না করে অভিযোগ গঠন করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি ও গডফাদার নূর হোসেনের পক্ষে সোমবার অসমাপ্ত জেরা শেষ করেন তার আইনজীবী খোকন সাহা। জেরায় প্রশ্ন করা হয় নূর হোসেনের সঙ্গে আরিফ হোসেনের যে কথা হয়েছে তার কোনো অডিও টেপ আছে কিনা।
নূর হোসেনের নম্বরটি তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা কি না, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ আসামি কেউ নূর হোসেনের নাম বলেছে কিনা, নূর হোসেনের সঙ্গে র্যাব কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনের দালিলিক প্রমাণ আছে কিনা, গ্রেফতারকৃত গোলাম মর্তুজা চার্চিল, রহম আলী ও আলী মাহমুদ নূর হোসেনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী কিনা?
উত্তরে সবগুলোতেই না সূচক বলেন এবং নূর হোসেনের নম্বরটি নাজমা রহমান নামের এক ভুয়া পরিচয়ে ব্যবহার হতো বলে জানানো হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতারকৃত নূর হোসেন, র্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডলকে জেরা করা হয়। এছাড়া সোমবার অপর আসামি র্যাবের এসআই পুর্ণেন্দু বালার পক্ষে তার আইনজীবী আহসানউল্লাহ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন।
এর আগের তিনটি ধার্য তারিখে র্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানার পক্ষে জেরা সম্পন্ন হয়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আসামিদের ক্ষোভের কথা জানানোর ফলে দ্বিগুণ করা হয়েছে কাঠগড়ার লোহার খাঁচাটি। জেলা ও দায়রা জজ আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ আদালত হওয়ায় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কাঠগড়া দ্বিগুণ করা হয়।
এর আগের জেরায় সাবেক র্যাব কর্মকর্তা এম এম রানাসহ অন্যরা ছোট আকৃতির কাঠগড়ায় ২৩ আসামির দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভের কথা জানান। এই খাঁচায় একসঙ্গে এতোগুলো আসামি থাকাটা কষ্ট হওয়ার সুবাধে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এতে করেই লোহার খাঁচাটি দ্বিগুণ করা হয়। এছাড়া খাবার নিয়ে সেখানে নূর হোসেনের সঙ্গে র্যাবের হাবিলদার এমদাদ হোসেনের হাতাহাতির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
জেরার সময় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, বাদীপক্ষে সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, শুনানি শেষে আগামী ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। সেদিনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও জেরা করা হবে।
জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার একটি নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা বিজয় কুমার পাল ও অপর বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭ জন করে। এখন পর্যন্ত সাত খুনের দুটি মামলায় অভিন্ন ১২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন শেষে জেরা শুরু হয়েছে।
শাহাদাত হোসেন/এআরএ/আরআইপি