মেঘ দেখলেই ছুটি!
নীলফামারীতে তিস্তার বন্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলিন হওয়ায় গাছতলায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। আকাশে মেঘ ডাকলেই দেয়া হচ্ছে ছুটি। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫শ ৫৩ জন শিক্ষার্থীকে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কাজল চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তার সিলট্রাপ, শাহীন চেয়ারম্যানের গ্রোয়িং বাধ ও যৌথ বাধে এসব শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে।
বন্যার পানিতে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাবুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব খড়িবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জিঞ্জিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি ও রাস্তাঘাট নষ্ট হয়েছে।
চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন বলেন, শুরুতেই বন্যার পানি ও ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন স্থানে পাঠদান করা হচ্ছে।
চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টির আশেপাশের মানুষ তিস্তার বাধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩০ জন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে।
টেপাখড়িবাড়ী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, গত ১ মাস থেকে সেখানে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫০-২৮০ জন শিক্ষার্থী এখানে আসে।
সিলট্রাপে আশ্রয় নেয়া টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের জিঞ্জিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী লাকী আক্তার জানান, আমাদের বাড়িঘর বানের পানিতে ডুবে গেছে। বই খাতাও নেই। স্যারেরা এখানে আমাদের ক্লাস নিচ্ছেন। রোদ বৃষ্টির ভয়ে কোনোভাবেই ভালো মত পড়াশোনা করা যায় না এখানে।
একই ক্লাসের সুলতানা বেগম জানায়, বাড়ি থেকে বস্তা এনে মাটিতে বিছিয়ে চলছে তাদের ক্লাস। আকাশে মেঘ জমলেই স্যারেরা ছুটি দিয়ে দেয়। এতে তাদের পড়াশুনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
বন্যার কারণে তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন সিলট্রাপে আশ্রয় নিয়েছে ৬শ পরিবার। সেখানকার শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে গাছতলায় পাঠদান করা হচ্ছে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে।
অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পাশের স্কুল ভেঙে পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানে পড়াশোনা বন্ধ। বাধ্য হয়ে সিলট্রাপে আশ্রয় নেয়া শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, বন্যার পানির তোড়ে দুই হাজার পরিবারের বসত ভিটা ও আবাদি জমিসহ সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাস্তা ঘাট নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ওইসব বিদ্যালয় পুরোপুরি পড়াশোনার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে উঁচু স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বণিক জাগো নিউজকে জানান, যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় ততদিন পর্যন্ত উচুঁ স্থানে পাঠদান প্রক্রিয়া চালানো হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বাইরে রাখা যাবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গাছতলায় পাঠদান চললেও শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে টিফিন। বই খাতা সরবরাহসহ অস্থায়ী ভিত্তিতে গড়ে উঠা কেন্দ্রগুলোতে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।
এফএ/এবিএস