ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চাচার পরিচয়পত্র নকল করে ভাতিজার বিয়ে

প্রকাশিত: ০৭:১১ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৬

নীলফামারীর ডিমলায় চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভাতিজা চাকরির পাশাপাশি চাচার নামে বিয়ে করার ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আর এই কাজটি করেছেন উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরখাতা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মনোয়ার হোসেন। তিনি চাচা রফিকুল ইসলামের কাগজপত্র জাল করে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পনিতে চাকরিও করে আসছিল।

মনোয়ার হোসেন পপুলার ইন্সুরেন্স কোম্পানির নোয়াখালি সদরে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। কিন্তু সেখানে চাকরি করেন রফিকুল ইসলাম নামে। মনোয়ার হোসেন সুকৌশলে রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রের ( ৭৩১১২১৩১৭১১২৬) ছবি পরিবর্তন করে এ জালিয়াতি করেন।

রফিকুল ইসলাম দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের মহিরউদ্দিনের ছেলে। মনোয়ার হোসেন বালাপাড়া ইউনিয়নের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (৫৭১৪৭১০৪২২৮৪০) ঠিকানা গ্রাম-নিশিপুর ডাকঘর- বামুন্দী, উপজেলা-গাংনী ও জেলা মেহেরপুর দেখানো হয়েছে।

মনোয়ার হোসেন ওরফে রফিকুল সেখানে চাকরির সুবাধে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বৈদ্যবাড়ী গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী খোদেজা বেগমকে (এক সন্তানের জননী) রফিকুল ইসলাম নামে গত ১ বছর আগে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ে পর মনোয়ার চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসে।

বিয়ের পর খোদেজাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের কারণে ডিমলা থানায় খোদেজা বেগম অভিযোগ দেয় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে গেলে মনোয়ারের জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। রফিকুল ইসলাম ঘটনাটি জানতে পেয়ে বুধবার রাতে ডিমলা থানার অভিযোগ করেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতারক মনোয়ার আমার প্রতিবেশি ভাতিজা। সে আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের আমার ছবি পবির্তন করে ও আমার সনদপত্র জালিয়াতি করে নোয়াখালিতে চাকরির সুবাধে খোদেজা বেগমকে বিয়ে করে তার নামে। মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মনোয়ারের জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ও আসল পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার বয়স বেশি থাকার কারণে প্রতিবেশী চাচা রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি পরিবর্তন করে বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করি। সেখানে চাকরির সুবাধে প্রেমের সূত্রে খোদেজাকে বিয়ে করি। বিষয়টি অপরাধ কিনা জানতে চাইলে বলে এটা আমাদের পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি।

এ ব্যাপারে খোদেজা বেগম মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে  প্রতারক মনোয়ার মিথ্যা রফিকুল নামে বিয়ে করেছে। বিষয়টি থানায় জানালে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। এখন মনোয়ার আমাকে নির্যাতন করবে না মর্মে গ্রাম্য সালিশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হলেও কোনো ধারায় মামলা হবে বুঝতে পারছি না।
 
জাহেদুল ইসলাম/এসএস/আরআইপি