ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম

প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ জনগাঁও এলাকায় আগুনে পুড়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গ্রামে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানা যায়।

মৃতরা হলেন- জনগাঁও এলাকার সুরেশ চন্দ্রের ছেলে পুলিশ সদস্য খরেশ চন্দ্র (৫৫), পুত্রবধূ কেয়া রানী (৩৫), নাতি নিলয় (১০), নাইস (১৫) ও খরেশ চন্দ্রের শ্যালিকা স্বর্ণা রানী (২০)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গ্রামে সুরেশ চন্দ্রের বাড়িতে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে যায়। এ সময় পাঁচটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘর থেকে বের হতে পারেনি কেউ।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে পীরগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার আগেই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য খরেশ চন্দ্রের স্ত্রী ও শ্যালিকার মৃত্যু হয়। এ সময় আরো তিনজন অগ্নিদগ্ধ হন।

অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রংপুর যাওয়ার পথে অগ্নিদগ্ধ তিনজনের মৃত্যু হয়।

সুরেশ চন্দ্র বলেন, আমার ছেলে তার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি পূজার ছুটিতে আসে। কিন্তু তারা সবাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। খরেশ চন্দ্র পুলিশ সদস্য হিসেবে দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে গেলাম আমরা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিদ্যুৎ সমিতিকে একাধিকবার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে বললেও তারা সেটি করেনি। এছাড়া হাসপাতালে গাড়ির জন্য ফোন করা হলেও গাড়ি আসেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে অগ্নিদগ্ধদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সময় মতো সবকিছু হলে হয়তো কয়েকজনের জীবন বাঁচতো।
 
এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি ইয়াসিন আলী ও পুলিশ সুপার ফারহাত আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের কথা নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল এহসান রিপন/এএম/আরআইপি