ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সরব আ.লীগ, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি

প্রকাশিত: ০৩:৪৩ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৬

দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে সরব হয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি তাকিয়ে আছে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনার দিকে।

জাতীয় পার্টি এখনো দলীয়ভাবে নির্বাচনে না নামলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। অনেক জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের দোয়া সমর্থনের ব্যানার ফেস্টুন চোখে পড়ছে।

কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশন জানায়, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছে। প্রশাসক পদ ছাড়াও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন।

বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জানা যায়। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পনির উদ্দিন আহমদে, জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর উল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা।

নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী। তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের চেয়ে সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীরা বেশি সরব।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. জাফর আলী জানান, জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কে নির্বাচনে অংশ নেবে বা নেবে না সেটা দল ঠিক করবে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়ার বিষয়ে পনির উদ্দিন আহমদে বলেন, আমিও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়ার জন্য সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে সব কিছু কেন্দ্রের নির্দেশের উপর নির্ভর করবে বলে তিনি জানান।   

জাতীয় পার্টির দু’টি পক্ষ থাকায় দুই পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

তবে এই বিষয়ে বিরোধী দলীয় চিফ  হুইফ কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। তিনি যে দিকনির্দেশনা দেবেন তাই করা হবে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় আলোচনা চলছে দলটিতে। শুধু অপেক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশনার উপর। জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নিয়ে ভাবছি। কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশ পেলে নাম প্রকাশ করা হবে। দলের নেতাকর্মীরা খুবই উজ্জীবিত রয়েছে।

বিএনপি এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে। এখানে বিএনপিও দুটি দলে বিভক্ত। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশ পেলে এক সঙ্গে একজন প্রার্থী দিয়ে দুটি দলই কাজ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান, আমরা এখনো জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সেভাবে ভাবছি না। কেন্দ্রের নির্দেশ আসলে প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে দল থেকে একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৫টি ওয়ার্ড ভাগ করা হয়েছে। ১ নং ওয়ার্ড ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি, পাথরডুবি, আন্ধারীঝাড়, ভূরুঙ্গামারী সদর, জয়মনিরহাট ইউনিয়ন। এখানে একজন সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচিত হবেন। উপজেলার তিলাই, চরভূরুঙ্গামারী, বঙ্গসোনাহাট, পাইকেরছড়া, বলদিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ২ নং ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

Kurigram

নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার, কচাকাটা, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া, বল্লাভের খাস ইউনিয়ন নিয়ে ৩ নং ওয়ার্ড। ভুরুঙ্গামারীর ১, ২টি এবং নাগেশ্বরীর এ ৩ নং ওয়ার্ড মিলে একটি সংরক্ষিত নারী আসন করা হয়েছে।

নাগেশ্বরীর রামখানা, সন্তোষপুর, হাসনাবাদ, ভিতরবন্দ, নেওয়াশী ইউনিয়ন মিলে ৪ নং ওয়ার্ড। রায়গঞ্জ, বেরুবাড়ি, বামনডাঙ্গা, কালীগঞ্জ এবং নাগেশ্বরী পৌরসভা নিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ নং ওয়ার্ড।

ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর, নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ি, ফুলবাড়ি সদর, ভাঙ্গামোড়, বড়ভিটা ইউনিয়ন মিলে ৬ নং ওয়ার্ড। সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড করা হয়েছে নাগেশ্বরী পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়ন ও ফুলবাড়ির ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা, ঘোগাদহ, যাত্রাপুর, পাঁচগাছী, মোগলবাসা ইউনিয়ন মিলে ৭ নং ওয়ার্ড। কুড়িগ্রাম পৌরসভা, কাঁঠালবাড়ি, হলোখানা, বেলগাছা ও রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়ন নিয়ে করা হয়েছে ৮ নং ওয়ার্ড।

 এ উপজেলার চাকিরপশার, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, রাজারহাট সদর, বিদ্যানন্দ, উমর মজিদ ইউনিয়ন মিলে ৯ নং ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়। ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড নিয়ে রাজারহাট উপজেলার ৭টি ও কুড়িগ্রাম পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ড করা হয়েছে।

রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁন ইউনিয়নসহ উলিপুর পৌরসভা এবং এ উপজেলার পান্ডুল, থেতরাই, দলদলিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ১০ নং ওয়ার্ড। গুনাইগাছ, বজরা, তবকপুর, ধামশ্রেণী, ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন নিয়ে ১১ নং ওয়ার্ড এবং দূর্গাপুর, বেগমগঞ্জ, বুড়াবুড়ি, হাতিয়া, সাহেবের আলগা ইউনিয়ন নিয়ে ১২ নং ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজারহাটের একটি ইউনিয়নসহ উলিপুর পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ১০, ১১, ১২ নং ওয়ার্ড মিলে মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ড করা হয়েছে।

চিলমারীর উপজেলার রমনা, চিলমারী সদর, রানীগঞ্জ, থানাহাট, নয়ারহাট ইউনিয়ন নিয়ে করা হয়েছে একটি ১৩ নং ওয়ার্ড। রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, রৌমারী সদর, শৌলমারী, চরশৌলমারী, বন্দবেড় ইউনিয়ন নিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ নং ওয়ার্ড।

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীরচর, রৌমারীর যাদুরচর ও রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি, রাজিবপুর সদর, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন নিয়ে করা হয়েছে ১৫ নং ওয়ার্ড। চিলমারী, রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলা মিলে ১৩, ১৪, ১৫ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণ সদস্য ওয়ার্ডগুলোর প্রত্যেকটিতে ৫-১০ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। অনেকে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। কথা বলছেন। দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। এসব প্রার্থীদের মধ্যে প্রাক্তন জনপ্রনিধির সংখ্যা বেশি।

এর মধ্যে বেশি রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান। গেল ঈদ ও দুর্গাপূজা ঘিরে প্রায় প্রার্থীরা ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়েছে। সবাইকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দোয়া সমর্থন চেয়েছেন।

সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নামও শোনা যাচ্ছে কোথাও কোথাও। তবে তাদের এলাকা বৃহৎ হওয়ায় এখনো ভোটারদের কাছাকাছি যাওয়া শুরু করেননি। তবে ব্যানার ফেস্টুন করে দোয়া সমর্থন চেয়েছেন অনেকে।

নাজমুল হোসেন/এসএস/এমএস