ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ধরলার ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

প্রকাশিত: ০৪:৫০ এএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৬

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নে ধরলার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ।

শুকনো মৌসুমে আকস্মিক ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারানো দুই শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছে অসহায় পরিবারগুলো।

গত এক সপ্তাহে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মোগলবাসা গ্রামের বাজার-সংলগ্ন প্রায় ২০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ, দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ও কয়েক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়ক, ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নিধিরাম, বাঞ্চারাম ও কিসামত গ্রামসহ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Erosion

ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামী এক মাসের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাটসহ তিনটি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে মোগলবাসা ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
 
এদিকে শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাই খুঁজে পাচ্ছেন না নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো। হাতে টাকা ও খাবার না থাকায় দু’চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছেন তারা।
 
বারবার যোগাযোগের পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়া না পাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষজনকে ঘর-বাড়ি হারাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের।

ধরলার ভাঙনের শিকার আবুল কবিরাজ জানান, হঠাৎ ধরলার তীব্র ভাঙনে ভিটে-মাটি সব নদীগর্ভে চলে গেছে। কোনো রকমে ঘরের চাল রক্ষা করতে পারছি। তাও আবার রাস্তার একদিকে রেখেছি। এখন কোথায় যাবো তার কোনো উপায় নাই। কেউ এমনিতে বাড়ি করার জায়গা দেয় না।

ভাঙনের শিকার দুদু মিয়া জানান, বাড়িঘর কোনো রকমে সরিয়ে নিয়েছি। বউ-বাচ্চা নিয়া আজ ৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। খাবারও নাই, হাতে টাকাও নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বার এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্যও দেয় নাই। সামনে কী হবে আল্লাহই ভালো জানেন।

দুদু মিয়া ও আবুল কবিরাজের মতো একই অবস্থা এখন মোসলেম উদ্দিন, নুরুল্ল্যা ও মুন্নিসহ দুই শতাধিক পরিবারের।

Erosion

মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবলু জানান, নদীভাঙন শুরুর আগে থেকেই আমরা এলাকাবাসী স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। মানববন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ভ্রুক্ষেপই করেনি। এজন্য এলাকার ২ শতাধিক পরিবারকে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছে।

আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা করে সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়েছি। ধরলার ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তা না হলে দু-একদিনে মধ্যেই মোগলবাসার একমাত্র পাকা সড়কটি নদীগর্ভে চলে যাবে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধরলার ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ৩টি স্থানে বাঁশের ৪৫০মিটার বান্ডাল দেয়ার কাজ শুরু করেছি। এছাড়া মোগলবাসা এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী বন্দবস্ত নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বরাদ্দ পেলে পরবর্তীতে স্থায়ী বন্দোবস্ত নেয়া হবে।

নাজমুল হোসেন/এফএ/আরআইপি